বিগত বছরে দেশব্যাপী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হামলা-সহিংসতার ৬৪৫টি ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান থাকার কথা জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, বাকি ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয়, বরং ‘সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত’। এর মধ্যে রয়েছে পাড়া-মহল্লার বিরোধ, জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার মতো ঘটনা।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), চার্জশিট এবং তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি ধরে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে সরকার প্রধানের দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উপাদানযুক্ত ৭১টি ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ধর্মীয় স্থাপনা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ৩৮টি, মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৮টি এবং মন্দিরে চুরির ঘটনা ছিল একটি। এছাড়া একটি হত্যাকা-ও সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যান্য ২৩টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে প্রতিমা ভাঙার হুমকি, সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক পোস্ট এবং পূজাম-প ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো ঘটনা।
এসব ঘটনায় পুলিশ ৫০টি মামলা নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২১টি ঘটনায় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, ২০২৫ সালের সংখ্যালঘুদের ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয় বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশী বিরোধ (৫১টি), জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব (২৩টি), চুরি (১০৬টি), পূর্ব শত্রুতাজনিত ঘটনা (২৬টি), অস্বাভাবিক মৃত্যু (১৭২টি) এবং ধর্ষণের ঘটনা (৫৮টি)। এছাড়া ‘অন্যান্য’ ১৩৮টি ঘটনা রয়েছে, যেগুলো অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
পুলিশ এসব ঘটনায় ৩৯০টি নিয়মিত মামলা এবং ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা নথিভুক্ত করেছে। পদক্ষেপ হিসেবে ৪৯৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৩০টি ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য বিশ্বাসের মানুষের দেশ এবং সবাই সমান অধিকারের নাগরিক। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
সরকার উপাসনালয় সুরক্ষা, উসকানি প্রতিরোধ, অপরাধের দ্রুত তদন্ত এবং গুজব প্রতিরোধের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে।