আদালতের নির্দেশে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ‘সার্ভিস বেনিফিট’ পরিশোধ করার কথা জানিয়েছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক পর্যালোচনা সভায় এ কথা জানান।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সোমবার, (১৯ জানুয়ারী ২০২৬) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পঞ্চদশ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ হাসিল করে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের আইনানুগ বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’
আদালতের নিয়োগ করা প্রশাসকের মাধ্যমে ইতোমধ্যে নাসা গ্রুপের শেয়ার বিক্রি করে শ্রমিকদের ৭৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় নাসা গ্রুপ এরই মধ্যে ৮টি ব্যাংকের ডাউন পেমেন্ট সম্পন্ন করেছে বলে তথ্য দেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অবশিষ্ট ১৫টি ব্যাংকের ডাউন পেমেন্ট এবং শ্রমিকদের বাকি বকেয়া পরিশোধের জন্য আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে নাসা গ্রুপের কিছু সম্পত্তি ‘উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে’ বিক্রি করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ এবং শিল্প এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় সভায়। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে ব্যাংক, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। এছাড়া নাসা গ্রুপের প্রশাসক, কোম্পানির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন সভায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি এক্সিম ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। গত ২ অক্টোবর তিনি গ্রেপ্তার হন। দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কয়েকটি মামলায় আসামি করা হয় তাকে। এরপর থেকেই অস্থিরতা তৈরি হয় নাসা গ্রুপের কারখানাগুলোতে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়তে থাকে, অপরদিকে শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন।
গতবছর সেপ্টেম্বরে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় সভায় নাসা গ্রুপের ১৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও ক্রয়াদেশ না থাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসব কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ১০টি, গাজীপুরে ২টি, চট্টগ্রাম ইপিজেডে ২টি এবং কুমিল্লা ইপিজেডে ২টি কারখানা রয়েছে এর মধ্যে। বন্ধ কারখানা খুলে দেয়াসহ বকেয়া বেতনের দাবিতে সে সময় আশুলিয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন করেন নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা। এ প্রেক্ষাপটে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। নজরুল ইসলাম মজুমদার গুলশানের প্লট, আশুলিয়ার জমি ও ভবন, নারায়ণগঞ্জের জমি, শেয়ার এবং রাজউকের প্লট বিক্রি করতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সে সময় সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।