চানখাঁরপুলের ৬ হত্যা মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় পিছিয়ে গেছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মঙ্গলবার, (২০ জানুয়ারী ২০২৬) রায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান রায়ের জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা এ মামলার আসামি। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি হবে দ্বিতীয় রায়। রায়ের পুরো কর্যক্রম বিটিভিতে সম্প্রচার করার কথা রয়েছে।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদ- এবং সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ।

তাতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন; আহত হন অনেকে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে তা দাখিল করেন।

অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিন ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছয় জনকে গুলি করে হত্যা করে।

তদন্ত সংস্থা এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার। প্রতিবেদনে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি রিপোর্ট, ২টি অডিও, বই ও রিপোর্ট ১১টি এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাজুল ইসলাম সেদিন বলেন, ‘এর মধ্যে একটি অডিও কল রয়েছে হাবিবুর রহমানের, যিনি পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে ওয়ারল্যাসের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমাতে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন পুলিশ সদস্যদের। উনার এই নির্দেশের পরই প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন পুলিশ সদস্যরা।’

এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল নাসিরুল ইসলাম। বাকি চার আসামি ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে।

২০২৫ সালের ১৪ জুলাই এই ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মোট ২৬ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩ জন। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন অভিযুক্ত আট আসামির সবার সর্বোচ্চ শাস্তির আর্জি জানিয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা চায়নিজ রাইফেল ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। যারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের গালমন্দ করা হয়, হুমকি দেয়া হয়। প্রসিকিউশন মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- পাবে বলে প্রসিকিউশন প্রত্যাশা করে।’

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংকট দেখছে না নির্বাচন কমিশন

» পদ্মা সেতু: টোল আদায় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

» সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

» ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে হাদির পরিবার, ১ কোটি টাকা বরাদ্দ

» চাপ তৈরি করে আমাদের ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না: আসিফ নজরুল

» নির্বাচনের আগে দ্রুত লুটকৃত অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

» হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলে সিআইডি পেল আরও ৫ দিন সময়

» রাজস্ব বিভাগ পুনর্গঠন ও নতুন ৪ থানা স্থাপন অনুমোদন

সম্প্রতি