অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি চারটি নতুন থানা স্থাপনসহ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ১১টি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন মঙ্গলবার, (২০ জানুয়ারী ২০২৬) (নিকার) ১১৯তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এটিই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিকারের প্রথম সভা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় ‘স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা’ বাড়াতে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতায় রয়েছে। আলদা বিভাগ হওয়ার পর সংস্থাটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে রূপান্তর হবে। আর সামস্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো সরকারি কর্মকতার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ।
রাজস্ব বিভাগ পুনর্গঠনের বিষয়ে বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘এনবিআর-এর যে বর্তমান চেয়ারম্যান, উনি বলেছেন যে এই পুরো দুইটা বিভাগ ফাংশনিং শুরু করার উনারা এক্সপেক্ট করছেন যে, এটা ফেব্রুয়ারি মাসে পুরোপুরি কাজ শুরু করবে। সেপারেটলি।’
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের অংশ হিসেবে সভায় ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ’ ও ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’ একীভূত করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যদিও মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে সভায় চারটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুর জেলায় পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পূর্বাচল দক্ষিণ এবং কক্সবাজার জেলায় মাতারবাড়ি নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নরসিংদী জেলায় রায়পুরা উপজেলাকে ভাগ করে সেখানে আরেকটি থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার নাম পরে জানানো হবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ভূল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধনের প্রস্তাবও সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে নিকার।