image
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের প্রেস ব্রিফিং, পাশে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ- এমন সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বৈঠকের পরও আগের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন হয়নি জানিয়ে সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় আছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সরকারের সিদ্ধান্ত জানালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই: আসিফ নজরুল

আমরা এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না: বুলবুল

উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা- এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কিনা সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।’

বৃহস্পতিবার, (২২ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ক্রীড়া উপদেষ্টা, ক্রীড়া সচিব, বিসিবি সভাপতি ও বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের বাইরে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন সভায়।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ভক্ত হিসেবে দাবি করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তবে ভারতে খেলতে না যাওয়ার ক্ষেত্রে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি আবার।

গতকাল বুধবার আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য একদিন সময় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে লড়াই চালিয়ে যাবেন তারা।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রিকেটের অনেক বড় একজন ভক্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে লিটন আছে, মিরাজ আছে, নাজমুল আছে, সোহান, তামিম- সবারই ভক্ত। তো স্বভাবতই আমরা সবাই চেয়েছি, আমরা যেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে পারি, আমরা যেন টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কারণ আমাদের ক্রিকেটাররা এটা কষ্ট করে অর্জন করেছে।’

কিন্তু, আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনার থেকে হয়েছে। যেখানে আমাদের দেশের একজন সেরা প্লেয়ারকে, উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে ভারত থেকে বের করে দিয়েছে- সোজা কথা, বের করে দিতে বলেছে।’

আইসিসি সভার পর গতকাল বুধবার বৈশ্বিক সংস্থাটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আশ্বাসসহ প্রতিটি মূল্যায়নেই ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই। তবে আইসিসির সেই বক্তব্যে ভরসা রাখছেন না বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘আইসিসি আমাদেরকে যতই বলুক নিরাপত্তা আশঙ্কা নেই, আইসিসি নামে তো আলাদা কোনো দেশ নাই। যে দেশে আমার একটা ক্রিকেটার নিরাপত্তা পায়নি এবং যে দেশে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সরকারের একটা বর্ধিত অংশ, তারাই আমার ক্রিকেটারকে উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনীহা হয়েছেÑ সেই দেশেই খেলা হচ্ছে। সেই দেশের পুলিশ, সেই দেশের সিকিউরিটি এজেন্সিরই দায়িত্ব হবে ক্রিকেটারদেরকে নিরাপত্তা দেয়া।’

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘ওই ঘটনার পর কী এমন চেঞ্জ হয়েছে ভারতের, যে আমরা ভাবতে পারবো ভারতে আবার কোনো উগ্রবাদী আস্ফালন হবে না এবং ভারত আমাদের মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই, তো আমাদের ক্রিকেটারদের, আমাদের সাংবাদিকদের, আমাদের দর্শকদের সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? এটা আমরা কিসের থেকে কনভিন্সড হব?’

ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আইসিসিকে জানানোর পর দুই দফায় বৈঠক হয়েছে দুইপক্ষের। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে আইসিসির একজন প্রতিনিধি এসেছিলেন ঢাকায়। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টার দাবি, বাংলাদেশকে রাজি করাতে আইসিসি যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদেরকে এ বিষয়ে কনভিন্স করার জন্য আইসিসি কোনো চেষ্টা করেনি। আইসিসি আসল যে ঘটনা, সেটাকে বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড যে সিকিউরিটি প্রসিডিউর, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। যেখান থেকে গ্রিভেন্সটা, সেই ঘটনা নিয়ে আইসিসি কোনো স্টান্স নেয়নি ঠিকমতো। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে আমাদের কনভিন্স করানোর চেষ্টা করা হয়নি। যে ঘটনাটা ঘটেছে মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে, ‘এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বা ‘আমরা এটার জন্য সরি’, ‘আমরা এই এই ব্যবস্থা নিচ্ছি তোমাদের দর্শক, তোমাদের সাংবাদিক, তোমাদের খেলোয়াড়দের জন্য’, তারা কোনোরকম যোগাযোগের চেষ্টা করেনি। ফলে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনোরকম স্কোপ নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আমরা আইসিসির থেকে সুবিচার পাইনি। আমরা এখনও আশা করবো- আইসিসি সুবিচার করবে। আমাদের বিশ্বকাপ খেলার যে অধিকার, যেটা শ্রীলঙ্কাতে আমাদের খেলার সুযোগ রয়েছে- এরকম বহু নজির পৃথিবীতে আছে যে, অন্য একটা ভেন্যুতে সিকিউরিটি রিস্কের কারণে খেলা হচ্ছে। আমাদের এখানে জেনুইন সিকিউরিটি রিস্ক আছে। আমরা এখনও আশা ছাড়িনি। আমরা আশা করবো, আইসিসি আমাদের জেনুইন সিকিউরিটি রিস্কটা সুবিবেচনার সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেবে।’

ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, ক্রিকেটাররা কী বলেছেন, সেসব প্রকাশ করা হবে না বলেও জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। তবে সিদ্ধান্ত যে সরকারের, তা পরিষ্কার জানিয়ে দেন তারা।

বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্ষতি কেমন হতে পারে, এই প্রশ্নে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেললে বাংলাদেশের কি ক্ষতি হবে সেটাও আপনাদের বিবেচনায় নেয়া উচিত। মাথা নত করে, নিজের দেশের মানুষকে সিকিউরিটি রিস্কের মধ্যে ফেলে, এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে, একটা জেনুইন রিস্কের মধ্যে নিজের দেশের শুধু খেলোয়াড় না, দর্শক এবং সাংবাদিকদেরকে ঠেলে দিলে কী ক্ষতি হতে পারে, সেটাও আপনাদের সবার বিবেচনায় নেয়া উচিত।’

ক্রীড়া উপদেষ্টা সেখান থেকে বিদায় নেয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দীর্ঘ বক্তব্যে নিজেদের অবস্থান আবার তুলে ধরেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেই বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তারা।

বুলবুল বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাব। আমরা এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আবার আজকে কমিউনিকেশন করবো, আরও কিছু জিনিস নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে আমরা ভারতে যেতে চাই না, আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আমাদের দল রেডি আছে। একটা বৈশ্বিক সংস্থা এভাবে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিতে পারে না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

আইসিসির সভায় ভোটে হেরে যাওয়ার পর সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। কিন্তু এখন তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন আইসিসিকেই।

আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে, সেটি বিসিবির জন্য ‘শকিং’ কিনা, জিজ্ঞেস করা হলে আমিনুল বলেন, ‘আমরা প্রেস রিলিজটা দেখিনি। তবে যে মিটিংটা হয়েছে, সেখানে কিছু শকিং বিষয় ঘটেছিল।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» উপদেষ্টা পরিষদে জুয়া প্রতিরোধসহ ৮ অধ্যাদেশ অনুমোদন

» বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু

» এবার ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» নির্বাচনের আগের দিন সাধারণ ছুটি: ভোটে ছুটি থাকছে টানা চার দিন

সম্প্রতি