আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার, (২২ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে সিআইডি সদর দপ্তরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
সিআইডি প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন আইজিপি বাহারুল আলম।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচন সমূহে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ নিয়োজিত ছিল। এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৫ জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে কমপক্ষে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র সমূহে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬ জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবে। তাছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ছাড়া (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। যার মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা।
উপদেষ্টা বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন- যা রোল মডেল হয়ে থাকবে। এজন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এবারের নির্বাচনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যেমন- প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও বর্ডি ওর্ন ক্যামরার ব্যবহার, সিসি টিভি স্থাপন, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার।
এবার প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গালর্স গাইড ও স্কাউট সদস্যরা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছে তারা বলবৎ থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ৮-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে একই অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিআইডির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে অনলাইনে নানা গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা।
সিআইডি প্রধান তার বক্তব্যে বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সিআইডির মোট জনবলের ৯০ শতাংশই এ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের আগে ও পরে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোতে সিআইডির সাইবার ইউনিট সর্বোচ্চ দৃষ্টি রাখার পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফল করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।