image

গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমছে, অস্থির এলপিজির বাজার, সংকট আরও বাড়বে

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ সংযোগে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গ্যাস চুরি হচ্ছে

ফয়েজ আহমেদ তুষার

এলপি গ্যাসের দ্বিগুণ মূল্য ও বাজারে না পাওয়ার সংকটে ভোগান্তিতে আছেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমতে যাচ্ছে। এতে তিতাস গ্যাসের অধিভুক্ত এলাকায় বসতবাড়িসহ সব শ্রেণীর গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্পচাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সার্বিকভাবে গ্যাস সংকট আরও বাড়তে যাচ্ছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে আগামীকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এ সময় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। ফলে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাবে।

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০-২৬০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির বড় অংশ পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের সময়ে সেই সরবরাহও কমে যাচ্ছে।

এদিকে ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে অনেক। অভিযান চালিয়েও অবৈধ সংযোগ পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। লাইন কেটে দেয়ার কিছুদিন পর পুনরায় অবৈধ সংযোগ চালু হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিদিন রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ গ্যাস চুরি হয়ে যাচ্ছে।

আবাসিকে রান্নায় ভোগান্তি বাড়ছে

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে আবাসিক খাতের গ্রাহকদের। রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার চাহিদার সময়ে অনেক জায়গায় চুলায় আগুন জ্বালানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। শীত মৌসুমে রান্না ও দৈনন্দিন কাজে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

এলপিজি সংকট চলছে

দেশে আবাসিকে রান্নায় বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপি গ্যাস (এলপিজি)। বর্তমানে যানবাহনও চলছে এই গ্যাস (অটোগ্যাস) দিয়ে। গত ডিসেম্বরের শেষদিক থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে এলপি গ্যাসের ভয়াবহ সংকট চলছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১৩০৬ টাকা। তবে বাজারে এই ওজনের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৩০০ টাকায়। এরপরও গ্যাস পাচ্ছেন না ভোক্তারা। এই সংকট এসে ভর করেছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস খাতে। এতে পরিবহন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীত মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবহন জটিলতা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পেতে দেরি, পাশাপাশি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও উঠছে।

শিল্পে সংকট

গ্যাস সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও শিফট কমানো বা উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতি থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করছে।

স্বাভাবিক হবে কবে

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হবে। তবে চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক সরবরাহ ঘাটতি থাকায় বসতবাড়িসহ সব খাতে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে সময় লাগতে পারে।

সংস্থাটি সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংকটকালীন সময়ে গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» টি-২০ বিশ্বকাপ: আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উপদেষ্টা ফারুকীর

» উপদেষ্টা পরিষদে জুয়া প্রতিরোধসহ ৮ অধ্যাদেশ অনুমোদন

» বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু

» এবার ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» নির্বাচনের আগের দিন সাধারণ ছুটি: ভোটে ছুটি থাকছে টানা চার দিন

সম্প্রতি