image
ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান এলাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে স্থানীয়দের দুর্ভোগ-সংবাদ

বুড়ি তিস্তার ভাঙন রোধে পাউবোর প্রতিশ্রুতি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’, স্থায়ী বাঁধ অনিশ্চিত

ময়েন কবীর, ডিমলা (নীলফামারী)

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান এলাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা পেতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া প্রতিশ্রুতি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ বাস্তবায়নে এখনও তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।

প্রতিবছর বর্ষা এলেই বুড়ি তিস্তার তা-বে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শুধু গত বর্ষা মৌসুমেই নাউতারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। স্থায়ী সমাধানের অভাবে ভাঙন যেন এখন এলাকাবাসীর জন্য নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে।

গত বর্ষা মৌসুমে বুড়ি তিস্তার তীব্র ভাঙন দেখা দিলে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক হিসেবে পাইলিং স্থাপন করে সাময়িকভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করে। ওই সময় ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান এবং রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান চলতি শুকনো মৌসুমেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বর্ষা মৌসুম প্রায় সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সাতজান এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ ভাঙনকবলিতদের। চলতি শুকনো মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আবারও ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, নদীভাঙনের কারণে হাজার হাজার একর আবাদি জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পাশাপাশি নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ফলে একাধিক স্কুল, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রতি বর্ষায় হুমকির মুখে পড়ছে।

নদী খনন, স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে বিভিন্ন সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সাতজান মৌজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবিÑ দ্রুত নদী খনন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গাইড ওয়াল নির্মাণ, কার্যকর পানি নিষ্কাশন স্ট্রাকচার স্থাপন, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন।

এ বিষয়ে নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনি বলেন, আমার ইউনিয়নের সাতজান এলাকার ভাঙনকবলিত মানুষের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, গত বর্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং দিয়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। মোট ৩.৩০ কিলোমিটার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত নভেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর), ডিজাইন সার্কেল-৬, বাপাউবো, ঢাকাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী চলতি মাসের মধ্যে কমিটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুজ্জামান বলেন, গত বর্ষা মৌসুমে আমি নিজে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পাইলিং দেয়া হয়েছে। চলতি শুকনো মৌসুমেই জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় অবগত আছেন। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আবারও কথা বলবো । তিনি পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিবেন।

এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বুড়ি তিস্তার ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সৃষ্টি হবে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» টি-২০ বিশ্বকাপ: আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উপদেষ্টা ফারুকীর

» উপদেষ্টা পরিষদে জুয়া প্রতিরোধসহ ৮ অধ্যাদেশ অনুমোদন

» বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু

» এবার ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» নির্বাচনের আগের দিন সাধারণ ছুটি: ভোটে ছুটি থাকছে টানা চার দিন

সম্প্রতি