image

বিচার পেতে আন্তর্জাতিক আদালতে যা‌বে বাংলাদেশ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আইসিসি তাদের নিজস্ব সংবিধানের লঙ্ঘন ক‌রে‌ছে, তাই "ন‌্যায় বিচা‌রের" জন‌্য বিসিবি এখন তাদের চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস) এ যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এই আইনী লড়াইয়ে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের হয়ে জটিল আইনি লড়াইয়ে জেতা ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত আইনজীবী, স্পোর্টস ল’ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল।

আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (DRC) থেকে আবেদন খারিজ হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী ২৬ জানুয়ারি সোমবার সিএএস এ আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল দাখিল করা হবে। বিসিবির আইনজীবীরা মূলত আইসিসির ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করে ‘Scotland’ দিয়ে প্রতিস্থাপনের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করবেন।

বিসিবি মনে করছে, সিএএস যদি একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Stay Order) দেয়, তবে টুর্নামেন্টের সূচি বা দলভুক্তি নিয়ে আইসিসি নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে।

বিসিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে, যেহেতু আইসিসির অভ্যন্তরীণ সব আইনি পথ বন্ধ হয়ে গেছে, তাই তারা এখন সুইজারল্যান্ডের লোজানে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (CAS) এ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সোমবারের আপিলে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত আইনজীবী নিক ডি মার্কো কেসি (Nick De Marco KC), যিনি এর আগে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের হয়ে জটিল আইনি লড়াই জিতেছেন। তাঁর সাথে থাকছেন স্পোর্টস ল’ বিশেষজ্ঞ লিন্ডসে লিন এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল।

বিসিবির মূল যুক্তি হবে, আইসিসি তাদের নিজস্ব সংবিধানের (Article 16.2) লঙ্ঘন করেছে, যেখানে সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

বিসিবির দাবি, আইসিসি তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা সংস্থার ‘নিম্ন থেকে মাঝারি’ ঝুঁকির দোহাই দিয়ে বাংলাদেশের ‘ফোর্স মেজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির যৌক্তিকতাকে এড়িয়ে গেছে।

য‌দিও এর আগে আইসিসিকে দেয়া বি‌সি‌বির নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হ‌য়ে‌ছি‌লো যে, আইসিসি যদি বাংলাদেশের যৌক্তিক নিরাপত্তা শঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তবে বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত বা ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট’ এ আপিল করতে দ্বিধা করবে না। ​বিসিবির আইনি নোটিশে আন্তর্জাতিক চুক্তির ‘ফোর্স মেজিউর’ (Force Majeure) বা অনিবার্য পরিস্থিতির ধারাটি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিসিবি যুক্তি দিয়েছে যে, ভারতের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাংলাদেশি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ওপর সুনির্দিষ্ট চরমপন্থী হুমকির ফলে সেখানে স্বাভাবিক ক্রীড়া পরিবেশ নেই, যা একটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতি বা ‘অনিবার্য কারণ’ হিসেবে গণ্য।

বিসিবি দাবি করেছে, খেলোয়াড়দের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং আইসিসি যদি এই শঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে অন্য কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা হবে ক্রিকেটীয় সৌজন্য ও আইনি বিধিবিধানের চরম লঙ্ঘন।

​বিসিবির এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সরকারও তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল শ‌নিবার পুনরায় ব্যক্ত করেছেন যে, দেশের সম্মান ও খেলোয়াড়দের জানমালের নিরাপত্তার চেয়ে কোনো টুর্নামেন্ট বড় হতে পারে না। আইসিসি বোর্ড সভায় অধিকাংশ সদস্য বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দিলেও এবং ‘ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি’ (DRC)-তে বিসিবির প্রাথমিক আবেদন খারিজ হয়ে গেলেও, বিসিবি এখন তাদের আইনি লড়াইকে বৈশ্বিক আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এটিই স্পষ্ট করল যে, তারা জরিমানার হুমকি বা প্রতিস্থাপনের ভয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নীতির সাথে কোনো আপোষ করবে না।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি