image

আদানির চুক্তিতে ‘ভয়াবহ দুর্নীতি’, বাতিলের জন্য যেতে হবে আন্তর্জাতিক আদালতে, প্রতিবেদন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ‘ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে’ বলে জানিয়েছে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি। ২০১০ সালের বিশেষ আইনের আওতায় স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য এই কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আদানির চুক্তি বাতিল করতে সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে এই কমিটি।

পর্যালোচনা কমিটির সংবাদ সম্মেলন

চুক্তির নেপথ্যে সাত-আটজন ব্যক্তির কয়েক মিলিয়ন ডলারের ‘অবৈধ লেনদেনের’ তথ্য পাওয়া গেছে

তবে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হিসাবে লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি

চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেউ যোগাযোগ করেনি’, বলছে আদানি

কমিটি জানিয়েছে, চুক্তির নেপথ্যে সাত-আটজন ব্যক্তির কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। তবে আদানি পাওয়ার বলছে, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বা এ সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ তাদের সঙ্গে করা হয়নি।

রোববার,(২৫ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চুক্তি পর্যালোচনায় গঠিত জাতীয় কমিটির সদস্যরা এসব তথ্য জানান।

কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান বলেন, ‘আদানির চুক্তিতে যে ধরনের দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে, আন্তর্জাতিক মানের মামলায় এমন শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া বিরল। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চুক্তির বিনিময়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ট্রাভেল ডকুমেন্টসহ প্রামাণ্য তথ্য দুদককে দেয়া হয়েছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হিসাবে লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।

পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভারতের অন্যান্য উৎস থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় আদানির বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৪-৫ সেন্ট বেশি দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই দাম ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্টে দাঁড়াবে।

এর ফলে চুক্তির ২৫ বছরে প্রতি বছর বাংলাদেশকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া, চুক্তির এমন কিছু শর্ত রয়েছে যেখানে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে আদানির ক্ষতি হলেও তার দায়ভার বাংলাদেশকে বহন করতে হবে।’

কমিটির প্রশ্ন, ‘কেন ঝাড়খ-ে বিদ্যুৎকেন্দ্র? কেন বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করে ভারতের ঝাড়খ-ের গোড্ডায় কেন্দ্রটি করা হলো? অস্ট্রেলিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা এনে ঝাড়খ-ে পুড়িয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অযৌক্তিক।‘ কমিটি বলছে, ‘এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (বিপিডিবি) আলোচনার কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি।’

কমিটির প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের সময় কম, আমরা চাইবো পরবর্তী সরকারও যেন এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়।’ বিলম্ব করলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিটি।

এদিকে এক বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বা এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ তাদের সঙ্গে করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও তারা বাংলাদেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

আদানি পাওয়ার বলেছে, বকেয়া অর্থ পরিশোধে বিলম্বের কারণে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যারা গত ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি