আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি ‘বিশেষ মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রমজান সামনে রেখে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে; এই চক্রকে দমন করতেই মন্ত্রণালয় সরাসরি মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছে। বিশেষ এই সেলটি প্রতিদিন দেশের বড় বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শন করবে এবং আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের পণ্যমূল্য পর্যবেক্ষণ করবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে চাল, চিনি, ভোজ্য তেল এবং ছোলার মতো রমজানের অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মজুতদারদের ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আজ থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলোকে সরাসরি জেল-জরিমানা করার বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বছর আমদানির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি, তাই বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। কেউ যদি বেশি লাভের আশায় পণ্য গুদামজাত করে বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আজকের সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে প্রতিদিনের বাজারমূল্য তালিকা যাচাই করবে। ভোক্তা সাধারণের অভিযোগ শোনার জন্য বিশেষ সেলের অধীনে একটি হটলাইন নম্বরও সচল করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ আসন্ন রমজানে সহনীয় মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।