রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা জুলাই গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার, (২৬ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই দুটি হত্যা মামলা মোট আসামি ৬৪ জন। এই আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র সোমবার গ্রহণ করেছেন আদালত। পরে আদালত দুই মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর মধ্যে মো. সবুজ হত্যা মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আর মো. হোসেন হত্যা মামলায় ২০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।’
সবুজ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। সেদিন মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বেরিয়ে মসজিদে যাচ্ছিলেন সিএনজিচালক সবুজ (২২)। পথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে গুলি ছোঁড়া হয়। এতে সবুজ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর সবুজের ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আর অজ্ঞাতনামা ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২১ আসামি পলাতক।
অন্য মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন (২৫)। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ২০ জন পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান প্রমুখ। এই মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ ৪ আসামি এখন কারাগারে আছেন। আর জামিনে আছেন ১০ আসামি।