২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারাদেশের ৫টি কারাগারে হামলা ও তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। ওই সময় কারাগার থেকে ২ হাজার ২শ’ ৫০ জন আসামি পালিয়ে গেছে। তার মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১,৫৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও পলাতক আছে ৭শ’ বন্দী। পলাতক বন্দীদের মধ্যে জঙ্গি ও মৃত্যুদণ্ডের আসামিও রয়েছে।
জঙ্গি ও মৃত্যুদণ্ডের আসামি আছে ২৮ জন
পলাতক বন্দীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে: পুলিশ সদর দপ্তর
কারাগারে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে: এআইজি প্রিজন
পলাতক বন্দীদেরকে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। কারা অধিদপ্তরের এআইজি প্রিজন (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় নরসিংদী কারাগার, সাতক্ষীরা কারাগার, কুষ্টিয়া কারাগার, শেরপুর কারাগার ও গাজীপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে হামলা ও তাণ্ডব চালানোর সময় মোট ২,২৫০ জন বন্দী পালিয়ে গিয়েছিল।
তখনকার সেই অতর্কিত হামলায় ১৬ কারারক্ষী আহত হয়েছিল এবং বন্দীরা পালানোর সময় কারাগার থেকে ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে ৬৭টি অস্ত্র পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে, অন্যগুলোর এখনও হদিস নেই। এ সংক্রান্ত ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাই অভুত্থ্যানের সময় ১০ হাজারেরও বেশি উচ্ছৃঙ্খল জনতা বাহির থেকে এবং বন্দীরা ভেতর থেকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে হামলা চালিয়েছে।
হামলার সময় উত্তেজিত জনতা দলবদ্ধভাবে লাঠি, রড, গজারি ও হকিস্টিক নিয়ে নরসিংদী ও শেরপুর কারাগারের প্রধান ফটকে হামলা চালিয়ে কারারক্ষীদের পিটিয়ে আহত করে তাদের অস্ত্র ও লাঠি কেড়ে নিয়ে যায়। ওই সুযোগে কারাগারে থাকা সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন মামলার আসামিরা সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের আসামিও রয়েছে।
সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও গাজীপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের ভেতর থেকে বন্দীরা দলবদ্ধভাবে বিদ্রোহ করে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। তখন সুযোগ সন্ধানী সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পালিয়ে যায়। শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়া ও তার সরকার পতনের পর কারাগারের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পুলিশ, র্যাবসহ যৌথবাহিনী কারাগারের আশপাশে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়।
কারা অধিদপ্তরের অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে জানা গেছে, ৫টি কারাগার থেকে জঙ্গি ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৭৮ জন আসামি পালিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে ৫ কারাগার থেকে মোট ২,২৫০ জন আসামি পালিয়েছে বলে কারা অধিদপ্তর দাবি করছে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার, (২৭ জানুয়ারী ২০২৬) পর্যন্ত ১ হাজার ৫শ’ ৫০ জন আসামি পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছে। এখনও পলাতক রয়েছে ৭শ’ আসামি। তাদের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, জেল পলাতক কারাবন্দীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর থেকে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ডিসি জানায়, জেল পলাতক সাজাপ্রাপ্ত কারবন্দীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বক্ষণ চেষ্টা করছে।
এ সম্পর্কে কারা অধিদপ্তরের এআইজি প্রিজন (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত-উল-ফরহাদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, ৫টি কারাগারে বাহির ও ভেতর থেকে হামলা চালিয়ে আসামি পালানোর ঘটনায় পৃথক ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে কারাগারের পরিস্থিতি অনেক নিরাপদ আছে। আর মামলা তদন্তে কারা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ পুলিশকে সবধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
কারা অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কারাগারে হামলা ও আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।