সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ‘সময়টা কোথায়’, প্রশ্ন জ্বালানি উপদেষ্টার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবিদের মূল বেতন দুই থেকে আড়াই গুণ বাড়িয়ে যে সুপারিশ করেছে তা বাস্তবায়নের সুযোগ এ সরকারের আমলে দেখছেন না বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

আমরা তো একটা ‘লিমিটেড টাইমের’ সরকার

অর্থ যোগানে নতুন সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে না

পরবর্তী সরকারের কাজ ‘সহজ’ করা হয়েছে

তিনি বলেছেন, পরবর্তী সরকার এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করা বা না করার ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনভাবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে’।

মঙ্গলবার, (২৭ জানুয়ারী ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন প্রশ্নে কথা বলেন, উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়নের সময়টা কোথায়? এখন তো মাত্র কয়েকটা (দিন), একটা কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সেটা পরীক্ষা করবে, পরে সেটা সুপারিশ করবে। ‘পরবর্তী সরকার তো ‘ইজ ফ্রি টু ডু অ্যানিথিং’। কারণ আমরা যেরকম এই সরকার একটা নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, পরবর্তী সরকার তো একইভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। ওরা তো যে কোনো ইয়ে (সিদ্বান্ত গ্রহণ) করতে পারে।’

গত বুধবার সরকারি চাকরিজীবিদের সর্বনি¤œ মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশন বর্তমানের মতোই সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি স্কেলে বেতন সুপারিশ করে।

জ্বালানি উপদেষ্টার দাবি, কমিশনের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতিসহ সরকারি কর্মীদের দাবি-দাওয়া আমলে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ সুপারিশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে কমিশন প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় বলেছিল।

এ অর্থ যোগানে নতুন সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে কিনা এমন প্রশ্নে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে যে এক লাখ কোটি টাকা ‘হোয়াটএভার’ যেটা আপনারা বলতেছেন, সেটা হচ্ছে যে সর্বোচ্চ ব্যয় যদি পে-কমিশনের রিপোর্ট হুবহু বাস্তবায়ন করা হয়। এটা একটা পয়েন্ট। দ্বিতীয় যে প্রশ্নটা সেটা হচ্ছে যে যদি একই সময়ে বাস্তবায়ন করা হয়। তো ওই জন্য সাধারণভাবে আমরা যেটা আবার, আমি অতীতে যেহেতু সরকারি কর্মচারী ছিলাম, আমরা জানি যে এ ধরনের পে-কমিশন এক ইয়েতে বাস্তবায়িত হয় না, এগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হয়। তো সুতরাং, এসব প্রশ্নগুলো ওই যে কমিটি করা হয়েছে সে কমিটি দেখবে। ওই যেটা বললাম আর্থিক সংস্থানের বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় থাকবে এবং এটা, ওই যেটা বললাম যে সম্ভবত এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।’ তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বরং পরবর্তী সরকারের কাজ ‘সহজ’ করা হয়েছে।

ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘না, এটা চাপ হবে না। এটা বরঞ্চ আবার, আপনাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে, সেটা হচ্ছে যে আমরা তো একটা ‘লিমিটেড টাইমের’ সরকার। তো ওই জন্য আমরা কিন্তু এখন অনেক কাজ করতেছি, যাতে আগামী সরকার উপকৃত হয়। যেমন ধরেন, আমি যদি জ্বালানি খাতের বলি, আমরা একটা পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি মাস্টার প্ল্যান করছি। আমি জানি যে এটা বাস্তবায়ন করতে পারবো না, করার সময় নেই। কিন্তু আমি যখন আসছি তখন তো আমরা এরকম কিছু পাই নাই। তারপর একটা মাল্টি-মডেল ট্রান্সপোর্ট সেক্টর প্ল্যান করছি। তো ওই জন্য প্লিজ বুঝতে হবে যে সরকারকে শুধুমাত্র যে নিজের জন্য কাজ করে তা না, যে আমরা ভবিষ্যতের জন্য কাজ করি।’

পরবর্তী সরকারের কাজ সহজ করার জন্য পে-কমিশন, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কারণ একই জিনিস হবে কি যে আমরা যেটা চাই নাই, সেটা হচ্ছে যে এই পে-কমিশনের জন্য একটা অশান্তি হচ্ছিল। আপনারা জানেন যে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে একটা বিক্ষোভ ছিল নানা রকম। তো যাতে নতুন সরকার, যাতে এসে এ ধরনের একটা অচলাবস্থার সম্মুখীন না হয়। আমরা চাচ্ছি যে নতুন যে সরকার আসবে তাদের যাতে যাত্রাপথটা সহজ হয়, যে-ই আসুক না কেন, যে সরকারই আসুক।’

জ্বালানি উপদেষ্টার দাবি, এ সুপারিশের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘জিনিসের দামের তো প্রভাব পড়ার কোনো কারণ নাই। কারণ হচ্ছে, এটা আপনারা যদি ইয়ে না করে থাকেনÑ সংবাদপত্র যদি ভুলভাবে উপস্থাপন না করে, কারণ আমরা তো এটা বাস্তবায়ন করতেছি না। এটা পরিষ্কার। এটা মাত্র একটা কমিটি করা হয়েছে। ‘সুপারিশ গ্রহণ করা হয় নাই। শুধুমাত্র রিপোর্টটা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সুপারিশগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটা কমিটি শুধুমাত্র করা হয়েছে।’

বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। গত ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। পরে সময় বাড়িয়ে এর জন্য আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে তিন সপ্তাহ আগে প্রতিবেদন জমা দিল কমিশন। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠন হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবার এই কমিশন গঠিত হলো।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» নির্বাচনে পুলিশ ‘নিরপেক্ষতার’ প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

» বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে ২৩ জন ভারতীয় জেলের মুক্তি

» জাতীয় স্বার্থে কার্যকর ও জনমুখী কূটনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন

» কেন্দ্রের ৪শ’ গজের বাইরে মেলা বসলে আপত্তি নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

» জানুয়ারিতে ১২৮ এলাকায় ১৪৪ আচরণবিধি লঙ্ঘন, ৯৪ মামলা ও জরিমানা

সম্প্রতি