আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ ‘পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের’ প্রমাণ রাখতে সক্ষম হবে বলে পুলিশ বাহিনীর প্রধান বাহরুল আলম বলেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’
মঙ্গলবার, (২৭ জানুয়ারী ২০২৬) পুলিশ সদরদপ্তরে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৬৭ এএসপির উদ্দেশে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন বলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। নতুন যোগ দেয়া এই কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আপনাদের জন্য এ মুহূর্তটি কেবল একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি আপনার ন্যায্য অবস্থানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিজয় আপনাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আপনারা বৈধ অধিকার পুনরুদ্ধার করেছেন।
‘আপনাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে পূর্বতন কর্মক্ষেত্রে বিপুল অভিজ্ঞতা। সে অভিজ্ঞতাই আপনাদের শক্তি এবং পেশাগত দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।’ পুলিশপ্রধান বলেন, ‘আমরা এক নতুন বিশ্বে দাঁড়িয়ে আছি। সাইবার জগতে অপরাধ বাড়ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত গড়ে উঠছে। বর্তমান বাস্তবতায় কেবল শারীরিক শক্তি বা প্রথাগত পদ্ধতিতে পুলিশিং করলে হবে না। এখন প্রয়োজন বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজন সক্ষমতা।’
পুলিশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে সততা ও পেশাদারিত্ব ডিজিটাল পরিসরেও বিস্তৃত হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা এবং বিধি-বিধানের প্রতি ‘কঠোর আনুগত্য’ বজায় রেখে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য শিক্ষানবিশ এএসপিদের প্রতি আহ্বান জানান। এই শিক্ষানবিশ এএসপিদের মধ্যে ২৭তম ব্যাচের ৬০ জন, ২৮তম ব্যাচের একজন এবং ৪৩তম ব্যাচের ৬ জন কর্মকর্তা আদালতের নির্দেশে যোগ দিয়েছেন। ২৭তম বিসিএস কর্মকর্তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে।
ওই বছরের জুলাই মাসে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় সেই মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়, তাতে উত্তীর্ণ ৩ হাজার ২২৯ জনকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা রিট আবেদন করেন। কিন্তু ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীদের ২৫ জন আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গেল বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ বাদ পড়া ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেয়ার আদেশ দেয়। তাদের মধ্যে প্রথম দফায় গেল ১৮ ডিসেম্বর ৬৭৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।