নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার ঢাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিন্তু ভারত তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বাংলাদেশকে জানায়নি। এমন তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এখানে এমন কোনো ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে, নিরাপত্তার জন্য তাদের (ভারতের) এই পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহারের কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। বাংলাদেশে এমন কোনো বিদ্যমান কারণ নেই যে, এখান থেকে তাদের চলে যেতে হবে।
আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার করেছে দেশটি। এ বিষয়ে আজ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে সাংবাদিকরা জানতে জানতে চাইলে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এটা তাদের (ভারতের) একেবারেই নিজস্ব বিষয়। তারা তাদের কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যেতে বলতেই পারেন। তারা কেন করেছেন, সেটা তারা বলতে পারবেন।
এই ঘটনায় ভারত বাংলাদেশকে কোনো বার্তা দিতে চায় কি না জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটা হতেও পারে, তবে আমি কোনো মেসেজ খুঁজে পাই না। তাদের পরিবারকে নিয়ে যাবেন, এতে আমাদের কিছু করার নেই। তবে তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা আমাদের জানায়নি।
উপদেষ্ট বলেন, আগে যখন নির্বাচন হতো, মাঝে তো অনেক দিন নির্বাচনই হয়নি, তবে তখনো নির্বাচনে কিছু ছোটখাটো সংঘর্ষ মারামারি হতো। এবার তার চেয়ে বেশি কিছু হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। আমার তো মনে হয় না এখানে এমন কোনো ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, নিরাপত্তার জন্য তাদের (ভারতের) এই পদক্ষেপ নিতে হবে।
রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রসঙ্গ
বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ত্রুটির কারণে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে গেছে বহুবছর আগে। তখন হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল। এর মধ্যে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, যারা আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, “একটি সিদ্ধান্ত যখন নেওয়া হয়, তখন কোনও দেশের প্রেক্ষাপটে সেখানে আরও অনেক স্বার্থ জড়িত থাকে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম, যেন এটা করতে না হয়। কিন্তু আমাদের অন্যান্য স্বার্থের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে- এই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়া হবে। তবে পাসপোর্ট দেওয়া মানেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক-এমন নয়।”
তৌহিদ হোসেন বলেন, “যেকোনও দেশের নাগরিককে পাসপোর্ট দেওয়া যায়-এর উদাহরণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে। অন্য দেশের নাগরিককেও পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব। আমাদের মূল বিষয় হলো-এই মানুষগুলো মিয়ানমার থেকে এসেছে। তারা এথনিসিটি নিয়ে গবেষণা করতেই পারে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু বর্তমানে এখানে থাকা ১৩ লাখ মানুষের পূর্বপুরুষরা শত শত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। কাজেই তাদের ফেরত নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “সারা পৃথিবীই স্বীকার করে যে রোহিঙ্গারা একটি জনগোষ্ঠী, যারা মিয়ানমারের আরাকানের অধিবাসী। আমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিষয়টি ডিল করতে হবে। ছোটখাটো টেকনিক্যাল ইস্যুর কারণে এটি আটকে থাকবে না। যদি তাদের ফেরত পাঠানোর মতো পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, সেটার জন্য আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে।”
মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁস নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এটা নিয়ে আমি কোনও কমেন্ট করতে চাই না। কারণ, এগুলো আমরা জানি না যে কে আসবে আর কী হবে। স্পেকুলেট করে তো লাভ নেই। কে নির্বাচনে জিতবে, কারা ক্ষমতায় আসবে—তারপর তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কীভাবে ডিল করবে, সেটাই দেখার বিষয়।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চীন নিয়ে মন্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করবো।”
আন্তর্জাতিক: ইরানে হামলায় আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক: দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’
আন্তর্জাতিক: বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক: ইসরায়েলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান