প্রায় ১১ বছর আগে রাজধানীর জুরাইনের ঋষিপাড়ায় সোহেল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার মামলায় রবিন ওরফে ট্যারা রবিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে এ মামলার আসামি রিপন ও মাসুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. খোরশেদ আলম গতকাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিলন হোসেন জানান, রবিনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর রিপন ও মাসুদকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। আসামিদের মধ্যে কেবল রবিন গ্রেপ্তার ছিলেন। রায়ের সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রিপন ও মাসুদ পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এ মামলার অন্য দুই আসামি ‘পিয়ারীর পোলা রবিন’ ওরফে রবিন-২ এবং তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন। তারা মামলার শুরু থেকে পলাতক। সোহেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত’ হিসেবে বর্ণনা করে রায়ের পর্যবেক্ষণের বিচারক বলেন, ‘পরিবার এমন হত্যাকাণ্ড প্রত্যাশা করে না। ইন্টারনেটের যুগে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বকে নাড়া দেয়। আদালত মনে করে, অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজাই প্রাপ্য।’
মামলার বিবরণে জানা যায়, সোহেল কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জে দর্জির দোকানে কাজ করতেন। ‘অসৎ সঙ্গে’ জড়িয়ে পড়ায় মা সুফিয়া বেগম তাকে প্রায় পাঁচ মাস ‘সেইফ কাস্টডি’তে রাখেন। ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে সে বের হয়। রবিনসহ অন্যরা সোহেলকে আবার ‘বিভিন্ন অপকর্মের’ প্রস্তাব দেয়। তবে সে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে হুমকি দিতে থাকে।
সেই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয় মসজিদের সামনে একটি খাবার হোটেলে ফুফাতো ভাই মিরাজের সঙ্গে বসে ছিলেন সোহেল। সেদিন দুপুর ৩টার দিকে রবিনসহ অন্যরা তাকে ডেকে ঋষিপাড়ার একটি একতলা বাসার ছাদে নিয়ে যায়। অভিযোগে বলা হয়, ‘রবিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেলকে কপালে গুলি করে। পেটে, বুকে, গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।’
এ ঘটনায় সুফিয়া বেগম ওইদিনই কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন কদমতলী থানার ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম। ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জনের সাক্ষ্য শোনে। মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল আদালত।