বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) (সাবেক পিজি হাসপাতাল) এখন থেকে চিকিৎসাসেবার বিল ও বিভিন্ন ধরনের ফি অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে নগদবিহীন ও আধুনিক করতে জাতীয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’ যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের ব্যাংক বুথে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
আজ বিএমইউ’র শহীদ ডা. মিল্টন হলে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে বিল ও ফি পরিশোধ করা যাবে। একপে প্ল্যাটফর্ম এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাগজবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় করতে ডিজিটালাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। একপে চালুর মাধ্যমে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবাপ্রদান আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। তিনি ডেটা ইন্টারঅপারেবিলিটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউ’র ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, রোগীদের উন্নত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অগ্রাধিকার। এটুআই’র সহায়তায় বিএমইউ’র আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক হবে এবং এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আমরা যৌথভাবে কাজ করে যাব।
এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, একপে গেটওয়ে ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবাসমূহ আরও সহজে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। এটি নগদবিহীন ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি কার্যকর পদক্ষেপ, যা রোগীদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমাবে।
এটুআই’র হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সেবাগ্রহীতা ও শিক্ষার্থীদের আর নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পরিশোধ করতে হবে না। এখন তারা ঘরে বসেই বা যেকোনো স্থান থেকে নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার ফি ও বিভিন্ন চার্জ পরিশোধ করতে পারবেন। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও হয়রানি কমবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে, যা সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।
আয়োজকরা জানান, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রোগীদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও সমন্বিত করা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা একটি জনবান্ধব, দক্ষ ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাহরীন আখতার, হেড অব কমিউনিকেশন্স মোহাম্মদ সফিউল আযম, কনসালটেন্ট (একপে) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার উছেন অংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।