ট্রাইব্যুনাল: যাত্রাবাড়ীতে তাইম ‘হত্যা’, হাবিবুরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি ২ ফেব্রুয়ারি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিপক্ষের শুনানির জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার, (২৮ জানুয়ারী ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবুল হাসান। বাকি পলাতক ৯ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদারের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন।

চিফ প্রসিকিউটর যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যার পুরো বিবরণসহ ১১ আসামির ব্যক্তিগত দায় ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন। তাজুল বলেন, ‘২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তার নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে তাইমকে হত্যা করা হয়। এমনকি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বাঁচাতে পেছন দিয়ে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার বন্ধু রাহাত। তখন তাকেও গুলি চালিয়ে তাইমকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য করে পুলিশ। মর্মান্তিক এ দৃশ্য সেই সময় সবার অন্তরে নাড়া দিয়েছিল।’

এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। পরে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির পক্ষে শুনানির জন্য সময় প্রার্থনা করেন আইনজীবী আবুল হাসান। পরে বাকি পলাতক ৯ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদারের আবেদনে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে এ মামলার গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন। হাবিবুর ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন, এস আই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ-উজ-জামান ও মো. শাহদাত আলী।

এর আগে, ২৪ ডিসেম্বর ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ২০২৪ সালের ২০ জুলাই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তাইম। তার বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের উপ-পরিদর্শক।

অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যুদ- দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» বিএমইউ প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে জাপানের জিচি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সভা অনুষ্ঠিত

» আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো নির্বাচনী প্রস্তুতি সিলেটে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণে গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান

» ডেঙ্গু: আরও ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি মোট আক্রান্ত ১,০২৫ জন, মৃত্যু ২

» সাংবাদিক আনিস আলমগীর এবার দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার

» হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেল আবারও তিনদিনের রিমান্ডে

» ভারত তাদের কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বাংলাদেশকে জানায়নি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

» গুলি করে হত্যা: এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুইজনকে যাবজ্জীবন

সম্প্রতি