ডেঙ্গুতে আরও ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে বুধবার, (২৮ জানুয়ারী ২০২৬) পর্যন্ত (২৮ দিনে) ১ হাজার ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১ জন ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন মারা গেছেন।
২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৫ জন, খুলনা বিভাগে ১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন ভর্তি হয়েছে। ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৫ বছর বয়সের ২ শিশু, ৬-১০ বছর বয়সের ৩ শিশু, ১১-১৫ বছর বয়সের ২ জন, ১৬-২০ বছর বয়সের ৪ জন, ২১-২৫ বছর বয়সের ২ জন, ২৬-৩০ বছর বয়সের ২ জন, ৩১-৩৫ বছর বয়সের ১ জন, ৪৬-৫০ বছর বয়সের ২ জন, ৫১-৫৫ বছর বয়সের ২ জন ও ৭১-৭৫ বছর বয়সের ১ জন রয়েছে।
চলতি মাসে আক্রান্তদের মধ্যে এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমাজেন্সি,কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব প্রাপ্ত ডা. জাহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু এখন নীরব আতঙ্কের নাম। গত কয়েক বছর ধরে রোগটি মৌসুমি সীমাবদ্ধতা ভেঙ্গে সারা বছরই দেখা দিচ্ছে। তবে বর্ষা ও বর্ষার পরবর্তী সময়ে এর বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিস মশা ঘরের ভিতর ও বাইরের অসংখ্য ছোট ছোট পাত্র, টব, ড্রাম কিংবা অযতে্ন ফেলে রাখা প্লাস্টিক সামগ্রীতে পানি জমে থেকে মশার জন্মস্থল তৈরি হচ্ছে। প্রতি কনটেইনারে এডিস মশার লার্ভার সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি প্রজননস্থলেই মশার উৎপাদন অনেকগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি রোগের বিস্তারকে বাড়িয়ে তুলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই দরকার জরুরি ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া। এটি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার কোন বিকল্প নেই।
পাশাপাশি লার্ভিসাইট ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।