গণভোটে সরকারি কর্মচারীদের হ্যাঁ অথবা না কোন পক্ষে প্রচারণা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়টি উল্লেখ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের পক্ষপাতমূলক প্রচার গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৮৬ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসি জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে পারেন, তবে ভোটের ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোনো পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। কমিশনের মতে, এ ধরনের আচরণ গণভোটের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
নির্বাচন কমিশন মনে করছে, সরকারি কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে গণভোট ও নির্বাচন উভয়ই সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এমনটাই উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।
উল্লেখ্য, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী যেসব কার্য অপরাধ বা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, গণভোটের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। এসব ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অপরাধের বিচার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে। অন্যদিকে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৮৬ ধারায় উল্লেখ আছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি তাঁর সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।