image

ইনোভেশন কনসাল্টিং’র জরিপ

নির্বাচনে বিএনপি ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ, জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, জনগণের মধ্যে বিএনপির সমর্থন ততই পোক্ত হচ্ছে বলে হালনাগাদ জরিপ চালিয়ে দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইনোভেশন কনসাল্টিং। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’ জানায়, জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। আর জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। আর ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের পছন্দ প্রকাশ করেননি। প্রতিষ্ঠানটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলেছে, উত্তরদাতাদের প্রায় ৬০ শতাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে তারা জানেন না।

শুক্রবার,(৩০ জানুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর কারওয়ানবাজারের বিডিবিএল ভবনে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জনমত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিএনপির সমর্থন বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। আর জুলাই আন্দোলনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

‘পেপস’র তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল আরও দেখাচ্ছে, এই জরিপের আগের রাউন্ডগুলোয় যারা জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন, তাদের একটি অংশের সমর্থন বিএনপির দিকে ঘুরে গেছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বড় অংশও বিএনপিকে ভোট দেয়ার কথা বলছেন।

এর আগে পেপসের প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে আর দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়। জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬-২৭ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয় দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দ এই ছয় বিষয়ে নেয়া হয় মতামত।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। জরিপে অংশ নেয়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তদের ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে হবে, তা জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। এছাড়াও ‘আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন’ এমন এক প্রশ্নের জবাবে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।

পেপসের রাউন্ড ২-এর তুলনায় রাউন্ড-৩ এ বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপিতে ঘুরছে বেশি

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। দলটির কার্যক্রমে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনও রয়েছে স্থগিত। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোথায় যাবে, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা।

পেপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্তহীন।

আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেয়ার কথা বলা কিছু ভোটারদের সমর্থনও বিএনপির দিকে ঘুরছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। আবার সিদ্ধান্তহীন মানুষেরাও এখন বিএনপিকে বেছে নিচ্ছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা পছন্দ প্রকাশ করেননি তাদের মধ্য থেকে জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে।

রাউন্ড-৩ এ কিছু জামায়াত সমর্থক তাদের ভোটের পছন্দ প্রকাশ করেননি জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলনামূলকভাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির চেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে গেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» এনসিটি নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা যায়: হাইকোর্ট

» রিট সরাসরি খারিজ, ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আজ

» কার্ড জটিলতা নিরসনে ইসিকে সাংবাদিকদের আলটিমেটাম

সম্প্রতি