বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমারেখায় (আইএমবিএল) দুই দেশের কোস্টগার্ডের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেড় শতাধিক বন্দী বিনিময় করা হয়েছে। শুক্রবার, (৩০ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশি ১২৮ জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনের দায়ে আটকের পর ভারতের কারাগারে বন্দী ১২৮ বাংলাদেশি জেলে দেশে ফিরেছেন। একইভাবে মাছ ধরতে এসে আটকের পর বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী ২৩ ভারতীয় জেলে নিজ দেশে ফিরেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গভীর সাগরে ভারতীয় কোস্টগার্ড জাহাজ বিজয়া ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জাহাজ কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে বন্দীবিনিময় সম্পন্ন হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে কমান্ডার শাহ্? কামরুজ্জামান ও ভারতের পক্ষে কমান্ডার নাদান কুমার স্বাক্ষর করে তাদের বুঝে নেন। ১২৮ বাংলাদেশি জেলেকে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম অঞ্চল সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কামরুজ্জামান জাহাজের কমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান বলেন, গত বছরের ১৮ ও ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় ২৩ জন ভারতীয় জেলে ও তাদের দুটি বোট এফবি শুভযাত্রা (১৪ জন) ও এফবি অনি-২ (৯ জন) আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। অন্যদিকে গত বছরের ১৬-৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে ১২৮ বাংলাদেশি জেলেসহ পাঁচটি বোট এফবি আদিব-২ (২৮ জন), এফবি মায়ের দোয়া (৩২ জন), এফবি নুরে মদিনা (২৪ জন), এফবি আমিনা গণি (২৯ জন) ও এফবি আল্লাহ মালিক (১৫ জন) আটক করে ভারতীয় কোস্টগার্ড। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে উভয় দেশের বন্দীবিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়।
শাহ্ কামরুজ্জামান আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা ও দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে এই হস্তান্তরপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া শেষ হলো।
সমুদ্রের বুকে বন্দীবিনিময় প্রক্রিয়া
আটক ভারতীয় জেলেরা বাগেরহাট জেলা কারাগারে ছিলেন। গত ২৭ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের মোংলায় আনা হয়। পরদিন ২৮ জানুয়ারি তাদের নিয়ে কোস্টগার্ডের জাহাজ সমুদ্রে যাত্রা করে। বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম আইএমবিএল এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ কামরুজ্জামান ও সোনার বাংলা এবং ভারতীয় কোস্টগার্ডের জাহাজ বিজয়ার উপস্থিতিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২৩ জন ভারতীয় জেলেকে তাদের দুটি বোটসহ হস্তান্তর করা হয়। বিনিময়ে ভারতে আটক ১২৮ জন বাংলাদেশি জেলে ও তাদের পাঁচটি বোট বুঝে নেয় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।