বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এক বছরে (২০২৫ সালে) সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৫২২টি।
ওই সব ঘটনায় ৬৬ জন হত্যার শিকার হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য ৬০টি আসন সংরক্ষণ, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে তারা।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্রকুমার নাথ। উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, জে এল ভৌমিক ও রঞ্জন কর্মকার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৫২২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ওই সব ঘটনায় ৬৬ জন হত্যার শিকার হয়েছে।
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ২৮টি, উপাসনালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ৯৫টি, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১০২টি। এছাড়া অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ঘটনা ৩৮টি; হামলা, হত্যার হুমকি ও নির্যাতনের ঘটনা ৪৭টি এবং জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের ৩৬টি ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩৬ জন গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এর আগের বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ১৭৪টি সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বলেছে, নির্বাচনের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। এখনও গত বছরের মতো চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ১১টি।
এই অবস্থায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট দিতে নিরুৎসাহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সেটা হলে তার দায় সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিগত সাত দশকের অব্যাহত নির্যাতন, নিপীড়ন, বৈষম্যের কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অগ্রসরমাণ জনগোষ্ঠী থেকে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। বিদ্যমান সংবিধানের ২৮-এর ৪ অনুচ্ছেদের আলোকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর যথাযথ প্রতিনিধিত্ব সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ৬০টি সংসদীয় আসন নির্ধারণ করে সংখ্যালঘুদের সরাসরি ভোট নেয়া প্রয়োজন।
এছাড়া সংলাপে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায়, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীতে অংশীদারি ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ ও বৈষম্যবিলোপ আইন প্রণয়ন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
নগর-মহানগর: বনানীতে আবাসিক ভবনে আগুন