image

প্রমাণ না থাকায় আরও ১২ জনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ বাতিল: কঠোর অবস্থানে সরকার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার আরও ১২ জন ব্যক্তির ‘জুলাই যোদ্ধা’ বা জুলাই বিপ্লবের বীর সেনানি সনদ বাতিল করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ আদেশ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ইতোমধ্যেই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এই ব্যক্তিদের দাবিকৃত তথ্য ও উপযুক্ত প্রমাণাদি যাঁচাই-বাছাই করার পর সেখানে বড় ধরনের অসঙ্গতি ও জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে প্রকৃত বিপ্লবীদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং তালিকায় নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধ করতে এই ভুয়া সনদগুলো বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ সেল জানিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের পর যারা আহত বা বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন বলে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন, তাদের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। আজ যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ ছিল যে তারা ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন।

তদন্ত কমিটির মতে, বিপ্লবের প্রকৃত চেতনা ধরে রাখতে কোনোভাবেই অযোগ্য বা ভুয়া কাউকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এর আগেও কয়েক দফায় যাচাই শেষে অনেক ভুয়া আবেদনকারীকে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং এই শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১১(৪) ধারা এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর সিডিউল-১ অনুযায়ী দেওয়া ক্ষমতাবলে এ গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে একই কারণে গত বছরের ২৯ অক্টোবর ১২৮ জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের বাতিল হওয়া ভুয়া জুলাই যোদ্ধারা হলেন, তাসফিয়াহ রিফা, আসাদুজ্জামান নূর, সুরুজ মিয়া, কহিনুর ও সখিনা এবং চাঁদপুরের বাতিলরা হলেন, কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেক ব্যক্তির গেজেট নম্বর, মেডিক্যাল কেস আইডি, বাবার নাম ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

​আজকের এই সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে বাতিল সনদধারীরা আর কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতাভুক্ত থাকবেন না। যদি কেউ ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক অনুদান বা সুবিধা নিয়ে থাকেন, তবে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় ফেরত নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার সুসংহত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বিপ্লবের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকরা।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি