image

ভিন্ন আবহে ফেব্রুয়ারি, নেই বইমেলার আমেজ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ফেব্রুয়ারির শুরু, বইপ্রেমীদের প্রতিক্ষার দিন। বইমেলাকে ঘিরে চলে নানান পরিকল্পনা। সকাল থেকেই অনেকের তোড়জোড় থাকে কখন মেলার উদ্বোধন হবে, মেলা প্রাঙ্গণে বইয়ের পাতা উল্টাবে! অনেকে আবার বইয়ের পাতা উল্টানোর সাথে সাথে মেতে উঠবে আড্ডায়।

তবে, এবার নেই চিরচিরায়িত এই রূপ। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে ভাষার মাসের প্রথম দিনে শুরু হচ্ছে না “অমর একুশে বইমেলা”।

জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে ফেব্রুয়ারির ১ তারিখের পরিবর্তে এবারের বইমেলা ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটা রমজানের মধ্যে পরেছে।

এদিকে, পরিবর্তিত তারিখ নিয়েও কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রকাশকদের অনেকেই আবেদন জানিয়েছেন নতুন তারিখটি পরিবর্তন করে ঈদ-উল-ফিতরের পরে তারিখ নির্ধারনের জন্য।

ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি

গত ২৭ জানুয়ারি ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রকাশকদেও একটি বড় অংশ। এর আগে, ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস)-এর সভাপতির কাছে ২৬২ জন সৃজনশীল প্রকাশক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে একই দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, বাপুসের পক্ষ থেকেও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতায় বাংলা একাডেমী চত্বরে প্রতীকী মেলা

অমর একুশে বইমেলার ধারাবাহিকতায় বাংলা একাডেমী চত্বরে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করেছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। জানা গেছে, প্রতীকী এই বইমেলায় ৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।

প্রতীকী বইমেলার বিষয়টি উল্লেখ করে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’ গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার না হওয়ার সিদ্ধান্তটি দেশের লেখক, পাঠক, প্রকাশক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। বায়ান্নর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর পয়লা ফেব্রুয়ারিতে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়। এই মেলা আজ বিশ্বপরিসরেও প্রতিষ্ঠিত এবং গুরুত্ব অর্জন করেছে, বিপুলসংখ্যক লেখক, পাঠক সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অমর একুশে বইমেলা এখন দেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

অমর একুশে বইমেলার ইতিহাস

বইমেলার শুরুটা হয়েছিলো ১৯৭২ সালে। ওইবছর ৮ ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে বটতলায় চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। এ ৩২টি বই ছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা। ওই সময় বর্ণমিছিলসহ আরো সাত-আটজন প্রকাশক একাডেমির ভেতরে পূর্ব দিকের দেয়াল ঘেঁষে বই সাজিয়ে বসেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এভাবেই বইমেলা চলতে থাকে। ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি মেলা উপলক্ষে ১৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ হ্রাসকৃত মূল্যে একাডেমি প্রকাশিত বই বিক্রির ব্যবস্থা করে। এর পাশাপাশি মুক্তধারা, স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্স ও তাদের দেখাদেখি আরো কেউ কেউ বাংলা একাডেমির মাঠে নিজেদের বই বিক্রির উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি।

ওই সময় ৭ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৮১ সালে বইমেলার মেয়াদ ২১ দিনের পরিবর্তে ১৪ দিন করা হয়। এরপর প্রকাশকদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালে মেলার মেয়াদ আবার ২১ দিনে বৃদ্ধি করা হয়। মেলার উদ্যোক্তা বাংলা একাডেমি। সহযোগিতায় ছিল জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। মূলত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের করুণ স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই এই মেলার নামকরণ হয় অমর একুশে যা নিয়মিতভাবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৪ সাল থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমির মুখোমুখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর একই নিয়মে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিলো। তবে, ২০২১ এবং ২০২২ সালে কোভিড এর কারণে বইমেলা শুরু নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দেয়।

২০২১ সালে বইমেলা ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চ মাসে স্থানান্তরিত হয়েছিল। পরের বছর কোভিড-১৯ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় একুশে বইমেলা আয়োজনে আবারো ঝুঁকি তৈরি করেছিল। পরে অবশ্য তারিখ পরিবর্তীত হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি