image
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে রোববার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা ছিল ফাঁকা -সংবাদ

এনসিটি ইজারা ইস্যুতে দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

আজও কর্মবিরতি ঘোষণা

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটে রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিরাজ করেছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট চলাকালে বন্দরে কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এ সময় বিভিন্ন সেবা ডেস্কে কর্মবিরতির নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় শ্রমিক-কর্মচারীরা।

তবে বন্দর এলাকায় পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মিছিল-সমাবেশসহ যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেন। শ্রমিক দলের নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ স্বতঃফূর্ত ধর্মঘট বানচালে দমন-পীড়ন চালায়। এ অবস্থায় রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ধর্মঘটের সমর্থনে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছিল। তবে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সেই কর্মসূচি স্থগিত করে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলনে সর্বাত্মক সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করেছে। জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সরকারকে শ্রমিক-কর্মচারীসহ জনতার দাবি মেনে ‘দেশবিরোধী চুক্তির’ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্কপ নেতা ইফতেখার কামাল খান বলেন, কালো পতাকা মিছিলের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু গতরাতে সিএমপি মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। এজন্য কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন না করতে অনুরোধ করা হয়। আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছি।

এনসিটি আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গতকাল শনিবারও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রোববার দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধের ডাক দেয়।

জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে ঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। তবে বন্দর ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল ছিল। অবশ্য কর্মচারীদের অধিকাংশই অফিসে হাজিরা দিলেও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত ছিলন। এছাড়া বন্দরের কর্মচারী ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ না দেননি। এর ফলে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ ছিল। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ধর্মঘট ঠেকাতে হয়রানি শুরু করে। পুলিশও দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছে। হয়রানি বন্ধ না করলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।

এর আগে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কর্মবিরতি পালন করায় চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়। বন্দর অচলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিটি গঠন করে বন্দর প্রশাসন। এছাড়া গতকাল শনিবার মধ্যরাতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সিএমপি কমিশনার বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, পথসভাসহ যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

এদিকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আজও পুনরায় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ঘোষণা করছে। সব শ্রমিক সংঘঠন বন্দর ব্যবহারকারীদের এই আন্দোলনে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ। রোববার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর।

বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করে রাখা ও চুক্তি করার উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দিনের ১৬ ঘণ্টার কর্মবিরতি সফল হয়েছে। উক্ত কর্মসূচি সফল করায় চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্কপ ও বন্দর রক্ষা পরিষদকে অভিনন্দন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বিগত, ২ দিনের আন্দোলন সংগ্রামের পরও কর্তৃপক্ষ বা সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। অধিকন্তু কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের চট্টগ্রাম থেকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটিতে ট্রান্সফার ও স্ট্যান্ড রিলিজ করে যাচ্ছেন। এতে করে আন্দোলন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

দুই সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবীর আরো বলেন, কর্তৃপক্ষ ও সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালে আমাদের হয়তো আর কোনো প্রোগ্রামে যেতে হতো না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সরকার তা না করে আমাদের আন্দোলনে যেতে বাধ্য করছে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» চানখাঁরপুল মামলা: আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের মুক্তি নয়

» নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগ আছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

» জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২শ’র বেশি সহিংস ঘটনা

সম্প্রতি