নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগ আছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

কূটনৈতিক বার্তা পরিবেশক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন প্রচারণায় সহিংসতা সম্পর্কে উদ্বেগ আছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে আমাদের নিজেদেরও উদ্বেগ আছে, আমরা সেটা সমাধান করার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিরসনে চেষ্টা করবে এবং সঠিকভাবে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছে।

রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ঢাকায় নির্বাচনকালীন রিপোর্টিং নিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং জাতিসংঘের ‘ব্যালট’ এবং ‘ড্রিপ’ প্রকল্প যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে বিদেশিদের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তা নিরসনে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা যে কোনো নির্বাচনের আগেই থাকে এবং সে রকমই আছে। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি, যাতে এগুলো বাড়াবাড়ি কোনো কিছু না হয়।’

নির্বাচনী ‘জিরো-সাম’ খেলায় কেউ হারতে চায় না, সে কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, ‘এমনকি যদি দলের পক্ষ থেকে ওই রকম চাপ নাও থাকে, ব্যক্তি পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এবং এটা আজকে প্রথম না, প্রতিনিয়ত ঘটেছে, প্রতি নির্বাচনে ঘটেছে; আমাদেরতো বয়সও কম হয় নাই, অভিজ্ঞতাও কম না, দেখেছি। এটা যতটুকু সম্ভব নিরসনের চেষ্টা আমরা করে যাব এবং নির্বাচন সঠিকভাবে হওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত বলে আমি মনে করি।’ নির্বাচনী প্রচারণার সময় সামগ্রিক পরিবেশকে ‘নাজুক ও অস্থির’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কংগ্রেস সদস্য চিঠি পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গ নিয়ে আরেক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি আপনাদের আগেই বলেছি যে, কোনো নির্বাচনই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয় নাই। আমি আজকে ওই ১৯৯১ সালেরটা দেখে বললাম।’ ‘আমি ভাবছিলাম যে ৯১টা বোধহয় খুব শান্তিপূর্ণ, পরিপূর্ণ ছিল। আমি তো বলছি যে কিছু অস্থিরতা আছে, কিছু অস্থিরতা থাকবে। একেকজন একেকভাবে বিচার করবে। সেটাকে আমাদের বিবেচনায় নিলে চলবে না। আমরা আমাদের মত করে যেভাবে এগোচ্ছি, নির্বাচনের দিকে যাব। নির্বাচন হবে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি মনে করেন ১২ ফেব্রুয়ারির (আগামী) নির্বাচনে আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি ভোট পড়বে। এর সংখ্যা হতে পারে ৫৫ শতাংশ। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এবার নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আমার মনে হয়।

এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, হ্যাঁ ভোট নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। জামায়াত-এনসিপি আগেই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলেছে। আর পরে বিএনপির চেয়ারম্যান হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলেছেন। হ্যাঁ ভোটে মানুষ ভোট দেবে দলের কথা শুনে। এখন বড় বড় দলগুলো যেহেতু হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলেছে। হ্যাঁ ভোট খুব সহজেই হবে বলে আমার মনে হয়।

ভারতে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চালানো ‘নো ভোট, নো ভোট’ প্রচারের প্রসঙ্গ টেনে এক প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। বিএনপির দিক থেকে যে অস্পষ্টতা ছিল, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের পর তা ‘দূর হয়েছে’। গণভোটের প্রশ্নে থাকা চারটি বিষয় না পড়ে দলীয় অবস্থান অনুযায়ী মানুষ ভোট দেবে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “তো সেই হিসেবে এখন মেজর ৩-৪টা পার্টি সবাই কিন্তু হ্যাঁ’র পক্ষেই বলছে। কাজেই আমার মনে হয় না, এটা নিয়ে (আওয়াম লীগের প্রচার) বড় কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে।” তিনি বলেন, ‘কিছু লোক ভোট দিতে নাও যেতে পারে, এটা সব সময় হয়। প্রতি নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। এবার কিছু বেশি লোক ভোটদানে বিরত থাকবে কিনা, এটা আমি বলতে পারবো না। তবে ১৯৯১-এর নির্বাচনে ৫৫% ভোট পড়েছিল। আমার তো মনে হয়, তার চেয়ে বেশি ভোট পড়বে এবার, দেখা যাক।’

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের তৎপরতা ও বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে আরেক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেক দেশেই ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে যায়। ভারতের যেমন এক ধরনের ট্র্যাডিশন আছে, আমাদের দেশে এক ধরনের ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে গেছে। এটা আমাদের কালচারের অংশ হয়ে গেছে যে, এখানকার যে কূটনৈতিক কমিউনিটি আছেন, তারা এ নিয়ে কথাবার্তা বলেন এবং আমার কাছে অনেক সময় মনে হয়েছে যে, আমাদের সমাজেরও একটা বড় অংশই চায় যে তারা কথা বলুক। কাজেই তাদেরকে আমি দোষ দিতে পারি না; এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।’ ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সাংবাদিকদের ভূমিকা জরুরি এবং অপরিহার্য। কেবল আইন ও প্রতিষ্ঠান দিয়ে নয়, বরং সচেতন নাগরিক দিয়ে গণতন্ত্র টেকসই হয়। আর সেটার কেন্দ্রে সাংবাদিকরা রয়েছেন।’ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বলেছেন,আমার মনে হয় এবার ভোট বেশি পড়বে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» চানখাঁরপুল মামলা: আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের মুক্তি নয়

» জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২শ’র বেশি সহিংস ঘটনা

সম্প্রতি