image

অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: সাভারে ‘লাশ পোড়ানোর’ মামলার রায় বৃহস্পতিবার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জুলাই আন্দোলনে সাভারের আশুলিয়ায় ‘পুলিশ ভ্যানে লাশের স্তূপ করে পোড়ানোর’ ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী বৃহস্পতিবার। রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিলেন। গতকাল ট্রাইব্যুনালে কার্যতালিকায় মামলাটি আদেশের জন্য ছিল এবং সেখানেই রায়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

মামলার নথিপত্র ও ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে পাঁচ তরুণ নিহত হন। তাদের লাশ একটি পুলিশ ভ্যানে তোলার পর সেখানে গুরুতর আহত আরেক তরুণকেও নিক্ষেপ করা হয়। এরপর ওই ভ্যানে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, আগুন দেয়ার সময় অন্তত একজন ভিকটিম জীবিত ছিলেন।’

মামালার এজাহারে এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন। ঘটনার পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। এই মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও পুলিশের সাবেক এসআই বিশ্বজিৎ সাহাসহ আটজন পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের পক্ষে দুজনকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

শুনানিতে কারাগারে থাকা আট পুলিশ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। তবে গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়ার আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করে এবং গত ১৯ নভেম্বর তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

গত বছরের ২ জুলাই এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৬২ জনকে।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর গত বছরের ৭ আগস্ট অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয় এবং ১৩ আগস্ট শুনানি শেষ হয়। পরে ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদার ও মঈনুল করিম।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» চানখাঁরপুল মামলা: আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের মুক্তি নয়

» নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগ আছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

» জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২শ’র বেশি সহিংস ঘটনা

সম্প্রতি