তফসিলের পর থেকে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা, ৫ হত্যাকাণ্ড: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে নির্বাচন ঘিরে এ পর্যন্ত (৫২ দিন) দেশে ২৭৪টি সহিংস ঘটনা আর পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তথ্য দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। এরমধ্যে, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সবচেয়ে বেশি ৮৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি, প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলার ঘটনা ১৫টি এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ৫টি। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা পাওয়া গেছে ৩টি।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, এ সময়ে নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগে ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস বা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২০টি। অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ছিল ১৭টি। এছাড়া হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ১টি এবং অন্য ক্যাটাগরিতে সহিংসতার ঘটনা ৭০টি।

গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে সংসদ নির্বাচনের ভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোট হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট নেয়া হবে।

নির্বাচনের আর ৮ দিন বাকি

তফসিল অনুযায়ী, প্রচার-প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আইন অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যায়।

দেশের বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের খবর এলেও বিগত অনেক নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের মাঠের পরিবেশ ‘চমৎকার’ আছে বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সভা-সমাবেশে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহারকে ঘিরে নানা ধরনের বক্তব্য-বিবৃতিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছেন তিনি।

সম্প্রতি ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আনোয়ারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘নির্বাচন মানেই দল, প্রার্থীদের এজেন্ডা, ইশতেহার নিয়ে কথা হবে। বক্তৃতায়-বিবৃতিতে একজন আরেকজনের পজেটিভ-নেগেটিভ দিক তুলে ধরবেন, এর মধ্য থেকে জনগণ বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে যে কাকে ভোট দেবে।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশে প্রচারে ব্যস্ত প্রায় দুই হাজার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। ইতোমধ্যে অনেক জেলায় প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে ১২৮টি নির্বাচনী এলাকায় ১৪৪টি আচরণবিধি লঙ্ঘনে ঘটনায় ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৯৪টি মামলা করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর আগের তিন নির্বাচনের সময়কার সহিংসতার তুলনা করে বলেছে, সর্বশেষ তিনটি সংসদ নির্বাচনের সহিংসতার চিত্রেও বড় ধরনের উঠানামা দেখা যায়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার মোট ঘটনা ছিল ৫৩০টি, একাদশ নির্বাচনে ৪১৪টি এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৪টিতে।

দশম সংসদ নির্বাচনের সময়ে আহত হন ৩১৫ জন, একাদশ নির্বাচনে আহতের সংখ্যা ছিল ৭৮০ জন এবং দ্বাদশ নির্বাচনে আহত হন ৪৬০ জন। নিহতের সংখ্যা যথাক্রমে ১১৫, ২২ ও ৬ জন। যানবাহন ও স্থাপনায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ক্ষেত্রেও ওই নির্বাচনের সময়গুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়। তবে দশম সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু ঘটনায় সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের পাঠানো তথ্যে বলা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি নিক্ষেপের ঘটনাও বিভিন্ন নির্বাচনী সময়ে নথিভুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

নির্বাচনে আছে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, জাতীয় পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং সিপিবিসহ অর্ধশত দল।

নির্বাচনে অধিকাংশই দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন শতাধিক। দলগুলোর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষে, জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টি লাঙল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়ছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে ২৯টি দল মাত্র ১ থেকে ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আর ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি দল।

নির্বাচনে যেসব দল অংশ নিচ্ছে না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» এলপি গ্যাস: ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়লো ৫০ টাকা

» জ্বালানি উপদেষ্টার ফোন নম্বর হ্যাক, চাওয়া হচ্ছে অর্থ

» এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার ৪৫৩টিই হত্যা মামলা: টিআইবি

» অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনের চাইতে ‘ঘাটতির পাল্লা ভারী’: টিআইবি

» লুটেরাদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির

» রাজউকের ‘প্লট দুর্নীতি’: দুই মামলায় হাসিনা, টিউলিপ, আজমিনা ও ববির কারাদণ্ড

সম্প্রতি