শেরপুর, হাতিয়াসহ ‘দেশজুড়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায়’ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ করেছে জামায়াতের নির্বাচনী জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কখনো বিএনপির নাম নিয়ে, কখনোবা দলটির দিকে ইঙ্গিত করে আবার কখনো দলটির প্রধান ও অন্য নেতাদের নাম নিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত।
এসব বিষয়ে ইসির কাছে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অনলাইনে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব অভিযোগ জানায় এনসিপির প্রতিনিধি দল। দলটির অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট দল পূর্ব পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট কয়েকটা দলের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগের দিন রোববার সিইসির সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধি দল আলাদা বৈঠক করে। পরদিন এনসিপি বৈঠক করলো।
নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপি নেতা আয়মান রাহাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট দল যখন অনবরত হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’ তার অভিযোগ, ‘শেরপুরে জামায়াত নেতা মারা গেছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায়। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
এ সময় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন, আইনজীবী হুমায়রা নূর উপস্থিত ছিলেন। আয়মান রাহাত বলেন, ‘আজ ওই হামলার যারা আসামি তাদের আগাম জামিন দেয়া হয়েছে। সেখানে ইউএনও, ওসিকে বদল করা হয়েছে, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। হামলা করে পার পেলে তাদের আত্মবিশ্বাস জন্মে যায়, তারা হামলা করবে তাদের ঠেকানোর কেউ নেই। হাতিয়াতেও একই অবস্থা।’ দেশজুড়ে হামলার ঘটনাগুলো ইসিকে অবহিত করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, ইসির নিয়ন্ত্রণ নেই। যে দল ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র করে ঘটাচ্ছে।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ঘটনার পর অভিযোগে মামলা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেয়া হলে তারা যা ইচ্ছে করে যাবেন। এতে অন্য দল আর নির্বাচন করার মতো পরিবেশ পাবে না।’ তিনি বলেন, ‘সারাদেশে যে হামলাগুলো হচ্ছে, প্যাটার্নে দেখা যায় একটা নির্দিষ্ট দল হামলা করছে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটা দলের ওপর হামলা করছে। প্যাটার্নটা যখন ক্লিয়ার তখন সে দলের বিরুদ্ধে সরকার ও ইসির অবস্থান নেয়া জরুরি।’
তার ভাষ্য, ‘বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী জনসভায় প্রকাশ্যে বলেছেন যে, তাদের প্রার্থী বাছাইয়ে পুলিশ, এনএসআই এবং ডিজিএফআই-এর জরিপ ব্যবহার করা হয়েছে।’
আয়মান রাহাত বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যদি একটি দলের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করে, তবে তারা নির্বাচনে কতটা নিরপেক্ষ থাকবে? এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণার পরই বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছেন ঋণ গ্রহীতাদের তথ্য চেয়ে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এমন ব্যবহার নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা ওই কর্মকর্তার দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করেছি।’
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বলেন, ‘গণভোট নিয়েও বিভিন্ন মহলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ইসিকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’