লুটেরাদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জামায়াতে ইসলামী জোট ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ায় নির্বাচনী সভায় তিনি বলেছেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি আল্লাহতায়ালা ইনসাফের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে ওই সব লুটেরাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা হবে এবং ইনসাফের ভিত্তিতে সারা বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্যয় হবে ইনশাআল্লাহ। আর কেউ এক টাকার রাস্তা আট টাকায় গড়ার স্বপ্ন দেখবেন না। আবার রাস্তা করার পর সঙ্গে সঙ্গে টান দিলে কার্পেটের মতো উঠে হাতের মধ্যে চলে আসে, সেই রাস্তা আর বাংলাদেশে বসবে না। জনগণের অর্থের পাই পাই হিসাব জনপ্রতিনিধিরা দিতে বাধ্য থাকবেন।’

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধি ও তার পরিবারের আয়-ব্যয় প্রতিবছর জনগণের কাছে প্রকাশ করার কথা বলেছেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘোষণা দিয়েছি আগামী ১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ আমাদের মহান প্রভু আমাদের একটা নতুন বাংলাদেশ দিবেন। সেদিন থেকে চাঁদাবাজ যারা, তাদের বলে দেব ওই কাজের দিন আজকেই শেষ। পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আসো, তোমাদেরকেও শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে তোমাদের হাতেও মর্যাদার কাজ তুলে দেব। যদি তারা আসে আলহামদুলিল্লাহ। যদি না আসে তাহলে যা করার দরকার তাই করা হবে। আর চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘যত ধরনের অপরাধ-দুর্নীতি আছে, আমরা কোনো অপরাধ-দুর্নীতির লেজ ধরে টানাটানি করবো না। আমরা কান ধরে টান দেব ইনশাআল্লাহ। কান থাকে মাথার দুইপাশে, মাথা ঠিক হলে সব ঠিক। মাথা হচ্ছে জাতির নেতৃত্ব। মাথা যখন পঁচে যায়, তখন শরীর আর কাজ করে না। আমাদের ৫৪ বছরের নেতৃত্ব নিজেদের সুস্থ মাথার প্রমাণ দিতে পারে নাই। এজন্যই জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে এরা বড় লোক হয়েছে, কিন্তু জনগণের যা পাওনা ছিল জনগণ তা পায় নাই।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পথ খুঁজে পাবে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে যুবকদের নেতৃত্বে আমাদের বিপ্লব সফল হয়েছে, সেই যুবকরা বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু জকসুতে এসে আপাতত থেমেছে। সব জায়গায় একই চিত্র। ‘আমরা চাই দালালমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ, আমরা চাই দুর্নীতিবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই মামলাবাজমুক্ত, ব্যাংক ডাকাতমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ, আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ চাই।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ন্যায় ইনসাফের এ বাংলাদেশ যারা চায় না, তারা পুরনো বন্দোবস্ত চায়। যেনতেনভাবে একটা নির্বাচন চায়। সংস্কারের জন্য গণভোট আগে চায় নাই। এরপর সবার যখন দাবি আসলো, তখন বললো গণভোট মানি তবে তা একদিনে হতে হবে। কিন্তু আমরা বলেছিলাম আগে গণভোট হোক, তারপর সাধারণ নির্বাচন হোক। তারা মানলো না। এখন তাদের দাবি মেনে নিয়ে একদিনে হলো, এখন বললো গণভোট আমরা মানি না, গণভোটের দরকার নাই। চতুর্দিক থেকে ঠ্যালা শুরু হয়েছে জনগণের। ঠ্যালার নাম বাবাজি। এখন আস্তে আস্তে শিশুর মতো মুখ ফুটতে শুরু করেছে গণভোটে হ্যাঁ বলেন।’

জামায়াতে ইসলামী আগে থেকেই গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে উল্লেখ করে দলের প্রধান শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগেই বলে দিয়েছি গণভোটে হ্যাঁ বলবো। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এ নির্বাচনী সমাবেশে শফিকুর রহমান দক্ষিণ চট্টগ্রামের দলীয় এবং জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে সকালে কক্সবাজার ও মহেশখালীতে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পরে লোহাগাড়ার পদুয়ার পাশাপাশি সীতাকু-ে নির্বাচনী সভাতেও বক্তব্য দেন তিনি।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» জ্বালানি উপদেষ্টার ফোন নম্বর হ্যাক, চাওয়া হচ্ছে অর্থ

» এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার ৪৫৩টিই হত্যা মামলা: টিআইবি

» অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনের চাইতে ‘ঘাটতির পাল্লা ভারী’: টিআইবি

» রাজউকের ‘প্লট দুর্নীতি’: দুই মামলায় হাসিনা, টিউলিপ, আজমিনা ও ববির কারাদণ্ড

» তফসিলের পর থেকে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা, ৫ হত্যাকাণ্ড: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

সম্প্রতি