শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার ৪৫৩টিই হত্যা মামলা: টিআইবি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জুলাই গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময়ের ঘটনায় সারাদেশে মোট ৬৬৩টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৪৫৩টি।

মোট ১ হাজার ৭৮৫টি মামলার মধ্যে হত্যা মামলা ৮৩৭টি

অভিযোগ জমা ১০৬টির, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ১২৮

পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা ৭৬১, মোট আসামি ১ হাজার ১৬৮। তবে গ্রেপ্তার ৬১ জন

ট্রাইব্যুনালে ৪৫০টি অভিযোগে মামলা ৪৫টি, শেখ হাসিনাসহ ২০৯ জন আসামি গ্রেপ্তার ৮৪ জন

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও কৌঁসুলিদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ

সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবাররাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামের এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে জুলাই গণআন্দোলনের মামলাগুলোর অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার হত্যাকারী, হত্যার নির্দেশদাতা ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা হয়। এরমধ্যে ৬৬৩টি মামলায় আসামি হিসেবে নাম এসেছে শেখ হাসিনার। মোট মামলার মধ্যে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, যার ৪৫৩টিতে হাসিনাকে আসামি করা হয়েছে।

যদিও ইতোমধ্যে জুলাই গণআন্দোলনের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

টিআইবি জানায়, এ পর্যন্ত ১০৬টি মামলায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৩১টি। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ ১২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার সংখ্যার সঙ্গে অভিযোগপত্রের সংখ্যার তুলনা করে সংস্থাটি বলেছে, এতে তদন্ত কার্যক্রমের ধীরগতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধেও অনেক মামলা হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৬১ জন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪৫০টি অভিযোগ দায়েরের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরমধ্যে মামলা হয়েছে ৪৫টি। এসব মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৪ জনকে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ১২টি মামলা বিচারাধীন, যেখানে আসামির সংখ্যা ১০৫ জন।

অনেক আসামিই গোপনে দেশত্যাগ করেছেন। তাদের দেশত্যাগে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ।

জুলাই গণআন্দোলনের পরে নির্বিচার মামলা দায়ের ও ঢালাওভাবে আসামি করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এসব মামলায় সারাদেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে ২১ হাজার ৮৫৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৮১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ৭৫ হাজার ৪০০ জনকে, তবে ৫৫ শতাংশ জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে মামলা ও গ্রেপ্তারবাণিজ্য, প্রতিশোধমূলক মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি এবং মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে চাপের মুখে তদন্ত ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলা গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পাওয়া বিচারক ও কৌঁসুলিদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং কিছু অগ্রগতি স্বীকার করলেও মামলার ভিত্তি দুর্বল হওয়া, মামলার প্রতিবেদন তৈরিতে পদ্ধতিগত জটিলতা এবং ঘটনার পরিষ্কার চিত্র না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

বিচারের রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ন্যায্য ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হলে বিচারকার্য সম্পাদন ও রায় দেয়ার ক্ষেত্রে সমালোচনা হতে পারে। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুর্বলতার কারণে প্রকৃত অপরাধীরাও দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ সদস্যদের কর্মকা-ের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থার বাইরে কার্যকর জবাবদিহি নেই। এক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা ও সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি অযৌক্তিক মামলা দায়ের ও বিনা বিচারের আটক, জামিনযোগ্য হলেও দীর্ঘদিন আটকে রাখা, ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি প্রভাব খাটানো, সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যা মামলায় আসামি করার মতো পুরনো ধারা এখনও বিদ্যমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করে তারা।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরাম, মো. জুলকারনাইন, রিসার্চ ফেলো ফারহানা রহমান, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোস্তফা কামাল, মোহাইমেনুল ইসলাম প্রমুখ।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» জ্বালানি উপদেষ্টার ফোন নম্বর হ্যাক, চাওয়া হচ্ছে অর্থ

» এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনের চাইতে ‘ঘাটতির পাল্লা ভারী’: টিআইবি

» লুটেরাদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির

» রাজউকের ‘প্লট দুর্নীতি’: দুই মামলায় হাসিনা, টিউলিপ, আজমিনা ও ববির কারাদণ্ড

» তফসিলের পর থেকে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা, ৫ হত্যাকাণ্ড: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

সম্প্রতি