স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জাতিকে খুব ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না। কেন্দ্র দখল যেন না হয় সেজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এছাড়াও পুলিশের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ বডিওর্ন ক্যামেরা দিচ্ছি। আমরা ড্রোন ব্যবহার করছি, সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করছি। এরপরও এবার কেউ যদি কোনো রকম কিছু করতে যায় তাহলে সে ভাই হোক বা বোন হোক কেউ ছাড় পাবে না। তিন দিন, চার দিন বা ছয় মাসের জামিন নিয়ে আসলেও সে ধরা খাবে।
তিনি বলেন, শুধু অবৈধ অস্ত্র না- বৈধ অস্ত্রও বাইরে আছে। গণ আন্দোলনের সময় থানাগুলো থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্র আমরা এখনও উদ্ধার করতে পারিনি। এরপরও উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে। আমি আশা করি, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাপারে তিনি বলেন, ভোট গণনা হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্র থেকে ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে।
সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর সিটি করপোরেশনের শহীদ সাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা জানান।
এর আগে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠানে কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এনডিসি পিএসসি ও অতিরিক্ত আইজিপি (ফাইন্যান্স) মো. আকরাম হোসেন বিপিএম। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এনডিসি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া।
নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুসরণের জন্য অধীনস্থ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে প্রত্যহ অফিস শুরু কিংবা শেষে অথবা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি, বিভিন্ন সমস্যাবলী, বর্তমান কার্যক্রম, সামনের কর্মসূচি, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াদি এবং আচরণ বিধিমালা কার্যক্রম সম্পর্কে সভা আহ্বান করা যেতে পারে।
উপদেষ্টা বলেন, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা যাতে বজায় থাকে সেটি রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তারা চিহ্নিত ও ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে পরিচিত, তাদের কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনী দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা যাবে না। যারা পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহে অনিয়মে জড়িত ছিল, দলকানা কিংবা বিতর্কিত তাদের কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা যাবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ ২০২৬’-এর ব্যবহার। যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, এই অ্যাপ তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার/নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, অ্যাপটির ব্যবহার বিষয়ে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দ্রুত শেষ করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বুথসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের পরিবেশ উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে হবে। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার মূল রাস্তা যাতে যাতায়াত উপযোগী থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এগুলো যাতে যথাসময়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো যায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।
নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে যে কোনো পরিস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। তিনি সবার সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, থানার ওসি এবং সশস্ত্র বাহিনীর ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।