আবাসিকে রান্নায় প্রচুর ব্যবহৃত বেসরকারি খাতের এলপি গ্যাসের দাম কেজিতে ৪ টাকা ২১ পয়সা বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। গত মাসে (জানুয়ারি) দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ চলতি মাসে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। জানুয়ারি মাসেও (গত ডিসেম্বরের তুলানায়) দাম বেড়েছিল ৫৩ টাকা।
সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেন। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজির (অটোগ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে তা ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা। প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ২ টাকা ৩৪ পয়সা।
বিইআরসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কোনো পর্যায়েই এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।
সংস্থাটি প্রতি মাসেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপি গ্যাস বা এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস পাওয়া যায় না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় আবাসিকে রান্নার কাজে। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ সংকট চলছে। সোমবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারে ৭০০-৮০০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা। ডিসেম্বরের শেষ দিকে সংকট বেড়ে গেলে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,৩০০-২,৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন খুচরা বিক্রেতারা।
দাম বেশি নেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দাম নির্ধারণের কারণেই বাড়তি দামের বিষয়টি বোঝা যায়। কমিশন আইন অনুসারে দাম ঘোষণা করছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, বেসরকারি এলপিজির মূল্য সংযোজন করসহ (মুসক/ভ্যাট) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৩ টাকা ৪ পয়সা। গত মাসে তা ছিল ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এই মাসে দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা ২১ পয়সা। এই হিসেবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।
এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।