গাজী মহিনউদ্দিন
গণভোটের প্রচারণায় নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপনের উল্টো পথেই হাঁটতে দেখা যাচ্ছে এ রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোকে। নিষেধাজ্ঞার পরেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করতে প্রতিটি দপ্তরের পক্ষে টানানো হয়েছে ঝুলন্ত ব্যানার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ঢুকতেই নজরে পড়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে উৎসাহিতকরণ ব্যানার।
ব্যানার গুলোতে লেখা হয়েছে, গণভোট-২০২৬, সংসদ নির্বাচন ‘দেশের চাবি আপনার হাতে” । প্রায় ১১টি তথ্য তুলে ধরে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করা এবং ‘না’ এর পক্ষে নিরুৎসাহিত করতে দেখা গেছে। যা গণভোট অধ্যাদেশ আইন অমান্য করা হয়েছে।
সরেজমিনে কারওয়ান বাজারে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান ওয়াসা ভবনের সামনে দেখা গেছে, গণভোট ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ব্যানার ঝুলছে। একই চিত্র পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ভবন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের অধিন্যস্ত বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, টিএনটি ভবন, মৎস ভবনের সামনেও। প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে ঝুলছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষের প্রচারণার ব্যানার।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ জানুয়ারী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গণভোট “হ্যা”ঁ এবং “না” পক্ষে প্রচারণায় অংশ না নিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ উল্লেখ করে বলা হয় প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি গণভোটের বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এর পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য জনগণকে কোনভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না।
এ ধরণের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।