image

র‍্যাবের নাম পাল্টে হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশে সবচেয়ে ”আলোচিত-সমালোচিত” বাহিনীর নাম র‍্যাপিড অ‍্যাকশন ব‍্যাটেলিয়নের (র‍্যাব) নাম বদলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

র‍্যাবের নাম বদলে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ) নামে নতুন অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই তথ্য জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র অনুসারে, শিগগিরই নতুন নাম সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে। র‍্যাবের পোশাক ও কার্যক্রমও শুরু হবে নতুন করে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইতিহাসে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব এক আলোচিত ও বিতর্কিত নাম। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর অপরাধ দমন ও জঙ্গিবাদে দমনে বাহিনীটি প্রশংসা কুড়ালেও, গত দুই দশকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ এই এলিট ফোর্সের গায়ে নেতিবাচক তকমা সেঁটে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দেশি-বিদেশি রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়।

র‍্যাবকে নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময়ই ছিলো ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ বিষয়টি। দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন অভিযানে শত শত মানুষ মারা গেছে, যাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘আত্মরক্ষা’ বা ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ বলে দাবি করে আসলেও সাধারণ মানুষের কাছে তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই পরিচিতি পায়। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলা র‍্যাবের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। সেই ঘটনায় বাহিনীটির কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার পর র‍্যাব বিলুপ্তির দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধারাবাহিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাব এবং এর বর্তমান ও সাবেক সাতজন কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি বিভাগের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয় যে, র‍্যাব বাংলাদেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গুমের সাথে জড়িত। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাহিনীটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তেমনি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়।

নিষেধাজ্ঞার পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত মার্কিন অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার পরবর্তী সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে।

অন্যদিকে, র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সবসময়ই দাবি করা হয়েছে যে তারা দেশের প্রচলিত আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করেন এবং বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার জন্য পুরো বাহিনীকে দায়বদ্ধ করা সমীচীন নয়। তবুও র‍্যাব নিয়ে বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক এই চাপ বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারের প্রশ্নে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» জ্বালানি উপদেষ্টার ফোন নম্বর হ্যাক, চাওয়া হচ্ছে অর্থ

» এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার ৪৫৩টিই হত্যা মামলা: টিআইবি

» অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনের চাইতে ‘ঘাটতির পাল্লা ভারী’: টিআইবি

» লুটেরাদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির

সম্প্রতি