লোহার শিকের ওপাড়ে থেকেও এবার দেশ গড়ার কারিগর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকা বন্দিরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবারই প্রথম আদালতের রায়ে দণ্ডিত কয়েদি ও বিচারাধীন মামলায় আটক হাজতিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের ৬৮টি কারাগারে থাকা কয়েক হাজার নিবন্ধিত ভোটার বন্দি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া শুরু করেছেন।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে কারাবন্দিদের ঐতিহাসিক এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নির্দেশনায় এবং কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এই ভোটদান সম্পন্ন হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কারাবন্দি যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত এবং ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, কেবল তারাই এই বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন। সারা দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে কয়েক হাজার বন্দি এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। উদাহরণ হিসেবে, নাটোর জেলা কারাগারে ৪১ জন, ফরিদপুরে ৫২ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ৭২ জন বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নিবন্ধিত হয়েছেন। বন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকায় যেতে পারছেন না, তারাও এই একই পদ্ধতিতে ভোট দিচ্ছেন।
ভোট গ্রহণের এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগ্রহী বন্দিরা আগেই নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে নিবন্ধিত হন। এরপর কমিশন থেকে তাদের নামে ডাকযোগে বা বিশেষ ব্যবস্থায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়। কারাগারের ভেতরেই স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী গোপন বুথ, যেখানে ভোটাররা গোপনীয়তা বজায় রেখে তাদের পছন্দের প্রতীকে সিল বা টিক চিহ্ন দিতে পারছেন। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত খামে ভরে সিলগালা করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
কারা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কারাগারগুলোতে বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। শিক্ষিত ও সচেতন বন্দিরা এই প্রক্রিয়ায় বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশেষ করে বিচারাধীন বন্দি এবং সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি উভয় শ্রেণির ভোটাররাই এই সুবিধা পাচ্ছেন। কারাগারের ভেতরে ভোট দেওয়ার এমন পরিবেশ দেখে সাধারণ বন্দিদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারি মূল নির্বাচনের আগেই পোস্টাল ব্যালটের এই ভোটগুলো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাস থেকেই বন্দিদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছিল। যেসব বন্দি ভোট দিতে আগ্রহী ছিলেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পোর্টালে আপলোড করা হয়। বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে সাধারণ বন্দি; যারা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটার, তারা নিজ নিজ এলাকায় না গিয়েও জেলখানায় বসেই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।
ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি মূলত একটি ডাকযোগের বা পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি। প্রত্যেক নিবন্ধিত বন্দি ভোটারের কাছে একটি খাম পাঠানো হয়েছে, যার ভেতরে ব্যালট পেপার, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক এবং একটি ঘোষণাপত্র রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নয়, এবারের গণভোটেও বন্দিরা তাদের রায় দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কারাগারের ভেতরে ভোট দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার ছাড়াই বন্দিরা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ফরিদপুর থেকে পাওয়া খবরে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও পুরুষ বন্দি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক: রহস্যময় কুখ্যাত চরিত্র জেফরি এপস্টেইন
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের ভরিতে বাড়ল ৫৪২৪ টাকা