image

জনপ্রতিনিধিরা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না: গোলটেবিলে বক্তারা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

দেশের সাধারণ মানুষ এখনো জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কিত এবং এই ভীতির কারণেই তারা দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে কোনো নীতি নির্ধারণ করেই বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না এবং জনপ্রতিনিধিরা কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পাবলিক ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট) আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা একমত হন যে, হকার উচ্ছেদ নয় বরং চাঁদাবাজিমুক্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করলে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে। ভ্যাট নীতি সংস্কার এবং নিম্নবিত্তের আয়-ব্যয়ের বাস্তব চিত্র মাথায় রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মামুনের সভাপতিত্বে এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন।

বৈঠকে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে।

তারা মনে করেন, জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ তৈরি না হলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বাংলাদেশে ভোক্তারা এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘ভুক্তভোগী’। হাড়ভাঙা খাটুনি খাটার পরও কেন দেশের শ্রমিকরা দরিদ্র থাকবে?

একে ভুল পলিসির ফল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে চরম বৈষম্যের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গড় মূল্যস্ফীতির হিসাব দিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করা হয়। নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের উপরে থাকলেও বিলাসবহুল পণ্যে তা কম থাকে, যার ঘানি টানতে হয় সাধারণ মানুষকে।

রাজেকুজ্জামান রতন সংসদ সদস্যদের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং দাবি তোলেন, জনপ্রতিনিধিরা কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

বৈঠকে ক্যাবের নির্বাহী সদস্য শওকত আলী খান সিন্ডিকেট ভাঙতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রাখার দাবি জানান।

অতিরিক্ত সচিব (অব.) সালেহা আফরোজ আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে কৃষি উৎপাদনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ড. শাব্বির আহমেদ পরোক্ষভাবে আয়ের ৪০ শতাংশ চাঁদা হিসেবে চলে যাওয়াকে বাজার অস্থিরতার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

পাইনেটের আহ্বায়ক নাজমুল হাসানের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদারুল ভুঁইয়া, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের ড. ফেরদৌস আরা খাতুন এবং অন্যান্য শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» জ্বালানি উপদেষ্টার ফোন নম্বর হ্যাক, চাওয়া হচ্ছে অর্থ

» এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

» শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৬৬৩টি মামলার ৪৫৩টিই হত্যা মামলা: টিআইবি

সম্প্রতি