গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। এমন একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিকমাধ্যমগুলোতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
ভিডিওটিতে কি ছিলো
দেখা যায়, খালিদুজ্জামান মিলিটারি পুলিশের সাথে তর্ক করছেন, কিন্তু মিলিটারি পুলিশ তাকে প্রবেশ করতে অনুমতি দিলেও গানম্যানকে অস্ত্রসহ প্রবেশ করতে অনুমতি দেননি।
এক পর্যায়ে মিলিটারি পুলিশ তাদের পদস্থ কর্মকর্তাকে ফোন দিতে দেখা যায় এবং সেই ফোনে তার সাথে মি. খালিদুজ্জামানকেও কথা বলতে দেখা যায়।
সেখানে এক পর্যায়ে খালিদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে নিরাপত্তার জন্য তাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। তিনি সেনাপ্রধানের কাছেও নালিশ করবেন বলে জানান।
এ সময় তিনি কয়েকবার সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন এবং কিছু অফিসার ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সুপরিকল্পিতভাবে ৫ই অগাস্টের পরে আমাদের দেশটাকে ধ্বংস করছেন”।
তবে বারবার মিলিটারি পুলিশ তাকে বলছিল যে ‘ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষেধ’।
এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সেনানিবাসে প্রবেশের বিধি-বিধান কিংবা নিয়ম-কানুন বিষয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে।
সেনানিবাসে প্রবেশের বিধি-বিধান
সেনানিবাসে প্রবেশের বিধি-বিধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মুখ খুলেছেন সেনা আইন বিশেষজ্ঞরা।
ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী দেশের সব সেনানিবাস সংরক্ষিত এলাকা এবং ওই আইন অনুযায়ী ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সবকিছু পরিচালিত হয় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে। আর শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো সেনা সদরের অধীনে মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরের নির্দেশনা।
এছাড়া অ্যাক্ট অনুযায়ী, পুলিশ ও আনসারসহ সরকারি অন্য যে কোনো সংস্থার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য যে অস্ত্র নিয়ে কেউ ভেতরে প্রবেশ করবে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, সেনানিবাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে মিলিটারি পুলিশ (এমপি) এর দায়িত্বরত সদস্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এমনকি সেনাকর্মকর্তারাও কেউ যদি তাদের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন বা অমান্য করেন তাহলে তিনিও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন।
অস্ত্রও বিষয়টি উল্লেখ করে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি এ বিষয়ে জানিয়েছিলো, “মন্ত্রীরা বা এই পর্যায়ের কেউ ভেতরে গেলে তার সাথে থাকা পুলিশের গাড়ি ও গানম্যান গেইটে অপেক্ষা করবে। যার কাছে অস্ত্র থাকবে তিনি অবশ্যই গেইটে থাকবেন। লাইসেন্সধারী ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়েও কেউ প্রবেশ করতে পারবে না”।
উল্লেখ্য, ক্যান্টনমেন্ট আইন, ২০১৮ এবং মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেটের নির্দেশনার অনুযায়ী, সেনানিবাস একটি ‘সংরক্ষিত এলাকা’ এবং এর ভেতরে বেসামরিক কোনো ব্যক্তির অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার সুযোগ নেই।
ফেসবুকে এমপি প্রার্থীর ব্যাখ্যা
ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত দলীয় প্রার্থী এস এম খালিদুজামান সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতা একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের এবং তিনি দাবি করেন যে ইতোমধ্যেই বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে।
‘প্রায় একমাস আগে সেনাবাহিনীর সাথে আমার ঘটে যাওয়া ভুল বুঝাবুঝি প্রসঙ্গে’ শিরোনামে ওই ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “বেশকিছু দিন আগে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার, সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়”।
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সমাধানকৃত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। যাই হোক উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল বুঝাবুঝি আর না হয় সে ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকবো ইনশাআল্লাহ”।