image

ভোটের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো: ইসি মাছউদ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সপ্তাহখানেক আগে নির্বাচনী পরিবেশকে তুলনামূলকভাবে ভালো বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

বুধবার, (০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে প্রশ্নের জবাবে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে, তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলবো।’

ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে দলগুলোর সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ও সংশ্লিষ্ট সবার নিকট আবেদন জানাই, একটা সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য তারাও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় ভোট উপলক্ষে ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা সম্পর্কে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আজকের মিটিংয়ে সর্বশেষ আমাদের যে প্রস্তুতি এবং সে প্রস্তুতি সম্পর্কে জাস্ট আমরা অবহিত হলাম।’

নির্বাচনীবিধি ভঙ্গ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনমন’ ও দুই দলের শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি এবং এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তাছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। কাজেই আমরা মনে করি যে, কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, এ ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, অনুগ্রহপূর্বক ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি এবং জুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন। কোনো একটা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে, তথ্যের ভিত্তিতে বা ওই কমিটির নিকট যদি কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেন, অভিযোগ ভিত্তিতে এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে, তারা বিষয়টি নিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিবেন, তদন্ত সাপেক্ষে কমিশনের নিকট তাদের প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন, রিকমেন্ডেশন সুপারিশ প্রেরণ করবে, সে মোতাবেক তাদের শাস্তি দেয়া হবে বা তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ অনেক ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় অনেক লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতিপূর্বে শাস্তি দিয়েছে এবং জরিমানা করেছে ।

যদি মোবাইল কোর্ট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা তার ভেতরে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয়, তাহলেও যে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।’

গুরুতর কোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও তা আমলে নিতে পারেন এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারার কথাও বলেন তিনি ।

কোনো প্রার্থী যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যদি যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণ ভঙ্গ হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নটা খুব জটিল প্রশ্ন। দুর্ব্যবহার কী ধরনের দুর্ব্যবহার, আইনের সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝা যায়, তাহলে নিশ্চয়ই তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।’

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারিতে এই নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের সময় আছে, স্ক্রুটিনির সময় আছে, কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে এই মুহূর্তে এখন আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।’

সেনাবাহিনীর সদস্যের সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর দুর্ব্যবহার এবং অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা বিধি ভঙ্গ করে কিনা জানতে চাইলে তার উত্তরে তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সেই কমিটি ঘটনার সত্যটা যদি পান, যদি দেখেন যে কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রার্থী বা কোনো ভোটার, যে কেউ হোক তিনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাহলে তিনি প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কমিশনের নিকট সুপারিশ করবেন এবং কমিশন সে মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

নতুন তফসিলের বিষয়ে কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

সম্প্রতি