অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্ধারিত সময়েই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের অমর একুশে বইমেলা। প্রকাশকদের একটি অংশের পক্ষ থেকে মেলা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের দাবি জানানো হলেও তা নাকচ করে দিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।
একাডেমির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হবে বাঙালির প্রাণের এই মেলা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। তিনি জানান, অনিবার্য কিছু কারণে এবার ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকাশকদের পক্ষ থেকে মেলা পেছানোর যে দাবি তোলা হয়েছিল, সেটিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, এপ্রিল মাসে মেলা আয়োজন করলে প্রচণ্ড দাবদাহ, ধুলোবালি এবং কালবৈশাখী ঝড়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা মাসব্যাপী মেলার জন্য মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।
এবারের মেলা চলাকালীন পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় দর্শনার্থী ও পাঠকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রমজানে মেলা প্রাঙ্গণে ইফতার, নামাজ ও তারাবির জন্য আলাদা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা থাকবে। ফলে মেলায় আসা পাঠক ও দর্শনার্থীদের ইবাদত পালনে কোনো অসুবিধা হবে না।
এছাড়া, প্রকাশকদের আর্থিক দিক বিবেচনা করে গত বছরের তুলনায় স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণাও দিয়েছে বাংলা একাডেমি। যদিও মেলা আয়োজনের সার্বিক খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও জানানো হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্টল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং ইতিমধ্যে মেলার ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবার ৫২৭টি পুরনো প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন ২৪টি প্রকাশনা সংস্থাকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠানও এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ভিন্নমত প্রকাশকারী প্রকাশকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিকূলতা থাকলেও জাতীয় সংস্কৃতির স্বার্থে সবাইকে একযোগে এবারের মেলায় অংশ নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।