ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যারা সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হবেন তাদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নেন। তবে চব্বিশের অভ্যুত্থান পরিস্থিতির কারণে এবার তা হচ্ছে না।
এবার নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবেন। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার তিন দিন পর হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) শপথ পড়াতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ নজরুল এ কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে আলোচনা হবে জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, তার (সিনিয়র সচিব) সঙ্গে কথা বলা হবে, আইন দেখা হবে। তারপর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অভিমত জানানো হবে।
গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তার আগে আগস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন।
এমন পরিস্থিতিতে এবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন, তাদের শপথ গ্রহণ করানোর কথা হচ্ছে স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। তারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে। এখন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন কারাগারে আছেন।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘তাদের (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার।’ ফলে এ অবস্থায় তাদের দিয়ে শপথ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না।
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমাদের আইনে আছে, ওনারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত, অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন, এক। দুই হচ্ছে, তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন এটা (নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখন আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারবো না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হবে। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হবেন নতুন সংসদ সদস্যরা।