ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ‘দ্রুত’ দায়িত্ব হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ভোটগ্রহণের তিনদিন পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব এ কথা বলেন। এর আগে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের বিষয়ে জানাতে বিকেলে ব্রিফিংয়ে আসেন শফিকুল ইসলাম
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করতে পারেন। সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে (দায়িত্ব) হ্যান্ডওভার হবে। এটা যদি দেখা যায় যে, তিন দিনের মধ্যে এমপিরা শপথ নিয়েছে। নেয়ার পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের লিডারকে ডাকা হচ্ছে যে আপনি আসেন শপথ নেন, নতুন প্রাইম মিনিস্টার হিসাবে। তিন দিনের মধ্যে এটা হয়ে যেতে পারে। মানে ১৫ ফেব্রুয়ারিতেও হয়ে যেতে পারে, এটা ১৬ ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে।’ প্রেস সচিব বলেন, ‘আমার মনে হয় না এটা ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
‘অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পর ১৮০ দিন ক্ষমতা ধরে রাখবে’- এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘যারা এই অপপ্রচারটা চালাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যটা হচ্ছে অসৎ ও উদ্দেশ্যমূলক। তারা এটা নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি যে এ ধরনের বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। সরকার প্রথম থেকেই জনগণকে নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যারাই নির্বাচিত হবেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন, তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার তুলে দিয়ে সরকার তার দায়িত্ব থেকে সরে যাবে। এটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কোনো সুযোগ নেই।’ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিরা সমান্তরালভাবে ১৮০ কার্যদিবস সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৮০ কার্যদিবসের যে বিষয়টা আলোচনায় এসেছে, সেটাও এর আগে বিভিন্ন সময়ে সরকারের যারা দায়িত্বশীল তারা পরিষ্কার করেছেন।’
এদিন সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াতে পারেন, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এবার নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবেন। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার তিন দিন পর হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) শপথ পড়াতে পারেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’