ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশের বাধা ঠেলে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন সংগঠনটির বেশ কিছু সদস্য। তারা পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নিয়েছে।
দুইদিন আগে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এরমধ্যেই সংগঠনটির ব্যানারে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন সদস্যরা। রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম রাত পৌনে ৯টায় বলেন, ‘ওরা দাবি তুলেছে জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্ত করার। আমরা ওদের সঙ্গে কথা বলছি।’
রাত সোয়া ৮টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেইসবুক পেইজে বলা হয়, ‘চারপাশে শত-শত পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে আমাদেরকে ঘিরে রাখা হয়েছে। লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘আমাদেরও শেষ কথাÑ ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর না করা অবধি আমাদের মেরে ফেলা হলেও আমরা একচুলও আমাদের অবস্থান থেকে সরবো না।’
এর আগে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেইসবুক পেইজে এই অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে বসেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।’
পরে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের অধীনে ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের ব্যাপারে আগামী ১ ঘণ্টার মধ্যে যদি মুহাম্মদ ইউনূসের তরফ থেকে কোনো বার্তা না আসে তাহলে ছাত্র-জনতাকে যমুনার সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা যমুনার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর দু’দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।