দেশের শস্য ভাণ্ডারে দুটি হাইব্রিডসহ আরও ছয়টি নতুন ধানের জাত যুক্ত হয়েছে। উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে একটি ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ, একটি লবণাক্ততা সহনশীল, একটি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, একটি হাওরাঞ্চলের উপযোগী ও ঠান্ডা সহনশীল এবং দুটি লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী হাইব্রিড জাত।
কৃষি মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রি ১১৫ একটি ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জাত। এটি বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের ধান। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৪ টন এবং জীবনকাল ১৩৭-১৪২ দিন। ধানের দানা কালো এবং গাছ লম্বা ও চিকন। ১০০০ ধানের ওজন প্রায় ১৭ দশমিক ৮ গ্রাম। ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৯৮ মিলিগ্রাম/কেজি এবং ৫৩৬ দশমিক ৬১ ইউএম প্রতি ১০০ গ্রামে।
ব্রি ১১৬ বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল নাবি জাত। গড় জীবনকাল ১৫৪ দিন। দশটি অঞ্চলে ব্রি ৯২-এর চেয়ে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। হেক্টরে গড় ফলন ৮ দশমিক ৫৯ টন, উপযুক্ত পরিবেশে ১০ দশমিক ৩৬ টন পর্যন্ত ফলন সম্ভব।
ব্রি ১১৭ স্বল্প জীবনকালীন, লবণাক্ততা সহনশীল ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮ দশমিক ৬ টন, উপযুক্ত পরিচর্যায় ৯ দশমিক ৯০ টন। ধানের দানা সোনালী, জীবনকাল ১২৯-১৩৫ দিন। অ্যামাইলোজ ২৪ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোটিন ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
ব্রি ১১৮ হাওরাঞ্চলের উপযোগী ঠান্ডা সহনশীল জাত। বপন অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও ধান চিটা হবে না। স্বাভাবিক সময়ে ৬ দশমিক ৯-৮ দশমিক ৫ টন ফলন সম্ভব। অ্যামাইলোজ ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ, প্রোটিন ৯ দশমিক ১ শতাংশ। দশটি অঞ্চলে ব্রি ধান-২৮-এর চেয়ে ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে।
ব্রি হাইব্রিড ধান ৯ ও ১০ লজিং টলারেন্ট। ঢলে পড়া প্রতিরোধী এবং মাঝারি মাত্রায় লবণাক্ততা সহনশীল। চারা থেকে পরিপক্ব অবধি ৪-৮ ডিএস লবণ সহ্য করতে পারে। কৃষকের মাঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ৯ দশমিক ৫-১০ দশমিক ৫ এবং ৯ দশমিক ৭-১০ দশমিক ৭ টন পর্যন্ত ফলন দেয়।
উল্লেখ্য, সর্বশেষে ৬টি নতুন জাতসহ ব্রি উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৭টিতে।