নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেয়া সরকারি কর্মচারীদের কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তিন দফা পুলিশি বাধা পেরিয়ে শুক্রবার, (০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যমুনার সামনে অবস্থান নেন বলে জানান পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মাসুদ আলম।
এরপর পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে তাদের একটি অংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড়ের দিকে সরে এলেও আরেকটি অংশ যমুনার সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে যমুনার সামনের এলাকা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও তারা অবস্থান অব্যাহত রাখেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ, লাঠিচার্জসহ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করতে থাকে তারা। আন্দোলনকারীরা পিছু হটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের দিকে অবস্থান নেয়। সেখানে অবস্থান ধরে রাখলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সোয়া ১টার দিকে আবারও বলপ্রয়োগ করে পুলিশ।
তখন আন্দোলনরতদের লক্ষ্য করে কয়েক দফা সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। তাতে তাদের একটি অংশ শাহবাগের দিকে ও আরেকটি অংশ বাংলামোটরের দিকে চলে যায়। এর পরপরই শাহবাগ থেকে ফার্মগেট সড়কের দুইপাশে যান চলাচল শুরু হয় বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘জুমার নামাজের আগে তারা সড়ক ছেড়ে চলে গেছে, বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’ এর আগে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছিলেন, ‘এই এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা আছে। এই এলাকায় কারো ঢোকা নিষেধ, ঢুকলে সেটি একটি অপরাধ।’ ‘সেই কারণে আমরা তাদের ডিসপাচ করেছি। তারা ব্যারিকেড ভেঙে আসছে, আমরা তাদের এই এলাকায় অবস্থান করতে দেবো না।’
এর আগে সকালে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন কয়েকশ’ সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে থালা-বাসন হাতে ‘ভুখা মিছিল’ নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা। শাহবাগ থানার সামনে, ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ও মিন্টু রোডে যমুনার দিকে প্রবেশমুখে তিন দফা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন আন্দোলকারীরা। এদিকে দুপুর ১টার দিকে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনার নিরাপত্তায় কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।