image
হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের জলকামান নিক্ষেপ -সোহরাব আলম

পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ জাবেরসহ আহত শতাধিক

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মিছিলে পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

যমুনায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে ছত্রভঙ্গ

অবরোধের পর অচল শাহবাগ

সংঘর্ষের সময় ‘গুলি ছোড়া হয়নি’, দাবি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের

আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি পুলিশ: ডিএমপি

আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার ফেইসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টে লেখা হয়। পরে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

এছাড়াও ইনকিলাব মঞ্চের ফাতেমা তাসনিম জুমা (মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক, ডাকসু), শান্তা আক্তার (সদস্য, জকসু), সালাউদ্দীন আম্মার (জিএস, রাকসু) সহ শতাধিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার, (০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারে সরকার ব্যর্থই কেবল হয়নি, উপরন্তু বিচারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আমাদের এখানে অর্ধশতাধিক রোগী এসেছে। তবে তাদের মধ্যে কোনো গুলির রোগী পাওয়া যায়নি। যারা আহত হয়ে এসেছেন, তাদের জরুরী বিভাগে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থান আঘাতে জখম রয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীর জখম ফেটে যাওয়া, থেতলে যাওয়া। এখন পর্যন্ত ভর্তি দেয়ার মতো রোগী পাইনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীরাও মারধরের শিকার হয়েছে। বাস ও মোটরসাইকেল থেকে যাত্রী নামিয়ে পেটাতে দেখা গেছে পুলিশকে।

সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জাবের নেতাকর্মীদের পুনরায় শাহবাগে অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর নেতাকর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেয়। এতে অচল হয়ে পড়ে শাহবাগ। দেশবাসীর উদ্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমাদের কিছু হয়ে গেলে আপনারা হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করবেন। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জাবের বলেন, পরিস্থিতি কেউ ঘোলাটে করবেন না। শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে বলতে শোনা গেছে, পেটাও পেটাও, মারো মারো বলে পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছেন। এছাড়া মোবাইল ফোনে ডিএমপি কমিশনারকে বলতে শোনা গেছে, মোটামুটি একটা সাইজে আইনা ফেলছি। যমুনা থেকে বের করে শেরাটনে কোনঠাসা করে রাখছি। গ্যাস-ট্যাস মারছি, ওরাও মারমুখী, খুবই খারাপ। রাত্রে কিছু নেতাকে অ্যারেস্ট করতে হবে। ওই যে আগে অ্যারেস্ট করছিলাম, ওই রকম। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যাচ্ছে, এই আয় আয়, হাদির লাশ নিয়ে যা বলে উপহাস করছে। সাংবাদিকদের কেন হামলা করা হয়েছে এ বিষয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে সাংবাদিকদের বলতে শোনা গেছে, আমাদের কেন পিটাইলেন, জবাব দেন।

# সংঘর্ষের সময় ‘গুলি ছোড়া হয়নি’, দাবি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি বলে দাবি করেছে সরকার। শুক্রবার বিকেলের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে। আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে তার ফেইসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টে লেখা হয়, যা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ‘যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। ‘সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।’

সংঘর্ষের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসাধীন বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। দপ্তর এও বলেছে, ‘তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।’

হাদি হত্যাকা-ের বিচার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামীকাল জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।’ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, ‘নির্বাচন সামনে রেখে সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে।

# আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি পুলিশ

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি পুলিশ। জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। ওই ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীও আহত হয়। এ নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ করা হলো।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» ভোট: গাড়ি রিকুইজিশন কীভাবে, ডিএমপিকে জানালো ইসি

» ৪৪তম বিসিএসে নিয়োগ পেলেন ১৪৯০ জন, বাদ পড়লেন ১৮৬

» ১৫ কর্মচারী রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত: বন্দর কর্তৃপক্ষ

সম্প্রতি