ভোট: গাড়ি রিকুইজিশন কীভাবে, ডিএমপিকে জানালো ইসি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যানবাহন রিকুইজিশনের বিষয়ে বিধি মেনে পদক্ষেপ নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হার বা ভাড়ার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ঠিক করে মালিককে তা দেয়ার বিধান অনুসরণের জন্যও বলা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ সম্পর্কিত বিধান পুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬ এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচনে মোবাইল ডিউটি, প্যাট্রোলিং ডিউটি, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, নির্বাচনী মালামাল পরিবহন, ফোর্স পরিবহনসহ নানা কাজে যানবাহন রিকুইজিশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বাস প্রায় ২৪০০টি, ট্রাক ৩০টি, লেগুনা প্রায় ১১০০টি এবং মাইক্রোবাস ১ হাজারের বেশি রিকুইজিশন দেয়া লাগতে পারে। এসব গাড়ি পুলিশসহ মোট নয়টি সংস্থার জন্য রিকুইজিশন করা হচ্ছে। এরমধ্যে সেনাবাহিনী, আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং টেলিকম খাতের সংস্থাগুলো রয়েছে।

কারও গাড়ি ৩ দিন, কারওটি ৫ দিনের জন্য রিকুইজিশন করা হতে পারে। কিছু গাড়ি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারিতেও নেয়া হতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা। এবার সংসদ ও গণভোটকে সামনে রেখে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামছে, মোতায়েন থাকবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিজ নিজ সংস্থার যানবাহন ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেবে। প্রয়োজন হলে যথাযথ বিধিবিধান অনুসরণ করে রিকুইজিশন বা ভাড়া করা যানবাহন ব্যবহার করা যাবে।

নির্বাচনে সরকারি দপ্তরের

যানবাহন ব্যবহার প্রসঙ্গে

গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএমপি থেকে যানবাহন রিকুইজিশনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়া হয়। তার প্রেক্ষাপটে ইসি সচিবালয় গতকাল বৃহস্পতিবার বিধি-বিধান জানিয়ে দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যানবাহন রিকুইজিশনের বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুচ্ছেদ-৬ এ বলা হয়েছে সরকার বা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা, কমিশন হতে এতদুদ্দেশে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো ভোট কেন্দ্রে বা কেন্দ্র হইতে ব্যালট বাক্স বা অন্যান্য নির্বাচনী দ্রব্য পরিবহন বা নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কর্তব্য পালনে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তির যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় বা প্রয়োজন হতে পাবে এ ধরনের কোনো যানবাহন বা জলয়ান অধিযাচন করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো প্রার্থী বা তাহার নির্বাচনী এজেন্ট কতৃক তাহার নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো উদ্দেশে ব্যবহৃত কোনো যানবাহন বা জলয়ান এইরূপে অধিযাচন করা যাবে না।

সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি দফা (১) এর অধীন অধিযাচনকৃত কোনো যানবাহন বা জলয়ানের দখল গ্রহণ করতে পারবেন এবং এতদুদ্দেশে যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রয়োজন মনে করলে পুলিশ বাহিনীসহ অন্য কোনো বাহিনীর সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।

যেক্ষেত্রে দফা (১)-এর অধীন কোনো যানবাহন বা জলয়ান অধিযাচন করা হয়, সেক্ষেত্রে সরকার বা উক্ত যানবাহন বা জলয়ানের অধিধাচনকারী কর্মকর্তা কর্তৃক স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হার বা ভাড়ার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে এর মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে এইরূপে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণে সংক্ষুব্ধ হয়ে কোনো যানবাহন বা জলয়ানের মালিক, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে, বিষয়টি সরকারের কাছে আবেদন করলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সরকারের নিযুক্ত সালিশ কর্তৃক নির্ধারিত হারে দেয়া হবে।

রিকুইজিশনের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ১০৩-ক ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, পুলিশ কমিশনারের লিখিত আদেশবলে যেকোনো যানবাহন ৭ দিনের বেশি নয় এমন সময়ের জন্য রিকুইজিশন করা যাবে, যদি তা জনস্বার্থে প্রয়োজন পড়ে। আর কোনো যানবাহন রিকুইজিশন করা হলে গাড়ির মালিককে নির্ধারিত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এসব বিধান মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিবিধ কাজে যানবাহন রিকুইজিশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে ইসি।

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» ৪৪তম বিসিএসে নিয়োগ পেলেন ১৪৯০ জন, বাদ পড়লেন ১৮৬

» ১৫ কর্মচারী রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত: বন্দর কর্তৃপক্ষ

সম্প্রতি