বড় গণমাধ্যমগুলোও ‘ক্লিকবেইট’ সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করছে: প্রেস সচিব

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গত ১৮ মাস দেশের গণমাধ্যমগুলো ‘অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করেছে’ বলে দাবি করেছেন এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তারপরও বার বার মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যমগুলোও ‘ক্লিকবেইট’ সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করছে। শনিবার, (০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এ কথা বলেন।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, কিছু গণমাধ্যমের এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে।

প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এ সময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শফিকুল আলমের ভাষ্য, ‘জাবেরকে হাসপাতালে নেয়ার সময় তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি গভীর অর্থবোধক-সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।’

প্রেস সচিব অভিযোগ করেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই ফেইসবুক পোস্টকেই সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।’

সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে।’ তার অভিযোগ, ‘আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করে।’

এর আগে মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, ‘তখনও ভুল এবং অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। সে সময় একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে নয় ঘণ্টার বেশি আটকে রাখে এবং আরেকটি গ্রুপ সচিবালয়ে ভাঙচুর চালায়।’ তার মতে, ‘শনিবারের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দিতে যাচ্ছিল।’

সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ‘সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।’

‘জাতীয়’ : আরও খবর

» ধানমন্ডিতে জোড়া খুন, রায় রবিবার

» পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সংঘর্ষ, ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছে ৬৫ জন

» বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে তড়িঘড়ি করে শ্রম আইন সংশোধনের অভিযোগ

» টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু ২৭ দিন পর মারা গেছে

» নির্বাচন: ৫৯ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

» চুক্তি বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে আজ থেকে ফের আন্দোলন

সম্প্রতি